আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট বিপর্যয়ে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র সাতদিন আগেই, অর্থাৎ গত ১৩ মার্চ ট্রমা কেয়ার ভবনের ওই লিফটটি খারাপ হয়েছিল এবং ইঞ্জিনিয়াররা এসে সেটি মেরামত করেছিলেন। অথচ এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ফের একই লিফট কীভাবে বিকল হল, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
লালবাজার সূত্রের খবর, ওই লিফটটি আদৌ সঠিকভাবে সারানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পুলিশকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি লিফটের কন্ট্রোল প্যানেল, সফটওয়্যার এবং যান্ত্রিক ত্রুটি সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
তদন্তে জানা গিয়েছে, মার্চের শুরুতেই লিফটটির নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন লিফটটি ঠিক আছে বলে জানানো হয়। কিন্তু তার কয়েকদিন পর, ১৩ মার্চ থেকে লিফটের ওঠানামায় সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। মাঝপথে থেমে যাওয়া এবং সেন্সরের গোলমালের মতো সমস্যা দেখা যায়। ইঞ্জিনিয়াররা এসে সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্ত করে মাদারবোর্ড পরীক্ষা করেন এবং সাময়িকভাবে সমস্যা মিটেছে বলে জানিয়ে লিফট চালু করে দেন।
Advertisement
কিন্তু তার মাত্র ছ’দিনের মাথায় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তদন্তে উঠে এসেছে, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দোতলা থেকে পাঁচতলায় যাওয়ার জন্য লিফটে ওঠেন। কিন্তু বোতাম টেপার পর লিফট সরাসরি সাততলায় উঠে যায়, তারপর আচমকা নেমে আসে বেসমেন্টে। এই সময় প্রবল ঝাঁকুনি হয় এবং দরজা জোরে বন্ধ হয়ে যায়, যার জেরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন অরূপ।
এই ঘটনার পর লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা, ইঞ্জিনিয়ার, পিডব্লুডি কর্মী, লিফটম্যান ও নিরাপত্তারক্ষী সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। পাশাপাশি, হাসপাতালের অন্তত ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রশ্ন উঠছে লিফটটি যথাযথভাবে মেরামত না করেই কি চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? এই গাফিলতির জেরেই কি প্রাণ হারাতে হল এক ব্যক্তিকে? এখন ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা, যা এই রহস্যের জট খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
Advertisement



