রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রায় তিন মাসের মাথায় প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে রঙের খেলায় বদল ঘটল। নবান্ন ভবনের গায়ে থাকা ‘নবান্ন’ লেখাটি এতদিন নীল সাদা রঙের ছিল। সেটা এবার বদলে গেল। নীল রঙের পরিবর্তন ঘটে গেরুয়া রঙে লেখা হয়েছে ‘নবান্ন’। সোমবার সকাল থেকেই ভবনের সামনে কর্মীদের রং করার কাজ করতে দেখা গেল। তারপরই পুরনো নীল সাদা রঙ মুছে নতুন গেরুয়া রঙে সেজে উঠল নবান্ন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই ভবনের গায়ে ছিল নীল-সাদার প্রলেপ। এদিন থেকে তা বদলে গেল।
এই পরিবর্তন ঘিরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে প্রশাসনিক ভবনের রঙ বদল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই রঙ বদল নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন গেরুয়া রঙে জ্বলজ্বল করছে ‘নবান্ন’ লেখা প্রধান ফলকটি। অনেকের মতে, এই রঙ বদল শুধু একটি প্রতীকী পরিবর্তন নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত স্পষ্ট। নবান্ন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী এবং শীর্ষ আমলাদের দপ্তর এখানেই অবস্থিত। সুতরাং ভবনের যে কোনও পরিবর্তনই জনমানসে এবং রাজনৈতিক আঙিনায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এদিন সকাল থেকে ভবনের সামনে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা যায় রঙ বদল করা নিয়ে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলে রঙ বদলের কাজ। নবান্নের সামনে দিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে তা ক্যামেরাবন্দিও করেন। প্রশাসনিক ভবনের এই রঙের পরিবর্তন নতুন সরকারের প্রতীকী বার্তা হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কদিন আগেই নতুন বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছে রাজ্যের স্কুলগুলির ইউনিফর্মের রং পরিবর্তনের কথা।
তাছাড়া কাজ শেষ হতেই নীল রঙের পরিবর্তে গেরুয়া রঙেই ফুটে উঠেছে ‘নবান্ন’ নামটি। প্রশাসনিক ভবনের এই নতুন রূপ আগামী দিনে আরও কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে কিনা, সেদিকেও নজর রয়েছে সকলের। আগামীদিনে নবান্ন পুরোটাই যে নীল-সাদা থেকে গেরুয়া হয়ে যেতে পারে তেমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর দেখা গিয়েছিল গেরুয়া আলোয় সাজানো হয়েছে নবান্নকে।




