• facebook
  • twitter
Wednesday, 7 January, 2026

নাবালিকার বিয়ে আটকাতে পুলিশের অভিযান, কুলতলিতে গ্রেপ্তার ৮

পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, পাত্রীর বয়স প্রাপ্ত বয়স্কের অনেক নিচে। এরপরই পাত্র আরিফুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বয়স বাইশ বছর বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র

নাবালিকাকে বিয়ে করতে এসে শেষ পর্যন্ত শ্রীঘরেই ঠাঁই হল পাত্রের। ভেস্তে গেল ধুমধাম করে সাজানো বিয়ের আয়োজন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে সোমবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পাত্র-সহ দুই পরিবারের মোট আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়নগর থানার বহড়ু এলাকার বাসিন্দা আরিফুল মোল্লার সঙ্গে কুলতলি এলাকার এক নাবালিকার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। দুই পরিবার মিলেই বিয়ের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছিল। আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। ঠিক সেই সময়েই গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে নাবালিকা পাত্রীর বিয়ের খবর আসে।

Advertisement

খবর পেয়েই কুলতলি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের সঙ্গে ছিলেন শিশু কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরাও। বিয়ে বাড়িতে ঢুকেই পুলিশ পুরো অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। কাগজপত্র খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, পাত্রীর বয়স প্রাপ্ত বয়স্কের অনেক নিচে। এরপরই পাত্র আরিফুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বয়স বাইশ বছর বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Advertisement

শুধু পাত্রই নয়, নাবালিকার বাবা, জেঠু, পাত্রের মামা-সহ দুই পরিবারের মোট আট জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পাত্র দাবি করেন, ‘পাত্রীর বয়স যে কম, তা তিনি জানতেন না।’ তবে পুলিশ এই দাবি মানতে নারাজ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, নাবালিকার বিয়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রত্যেকেরই দায় রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নাবালিকাকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শিশু কল্যাণ দপ্তরের তরফে নাবালিকার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, আইন অমান্য করে নাবালিকার ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত আট জনকেই মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

এই ঘটনায় ফের একবার নাবালিকা বিয়ে রোখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা সামনে এল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপ না হলে নাবালিকার জীবন চিরতরে অন্ধকারে ডুবে যেত।

Advertisement