চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পর প্রথমবার পা রেখে উন্নয়নের বড় বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, আগামী পাঁচ বছরে ‘নতুন চুঁচুড়া’ গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সকলকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের পথ এগোতে চান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ে পৌঁছন দেবাংশু। সেখানে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। জনতার অভ্যর্থনার মাঝেই নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করেন তিনি। দেবাংশুর কথায়, ‘চুঁচুড়ার মানুষ যেমন চান, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, দলীয় নেতৃত্বকে পাশে রেখেই নতুন চুঁচুড়া গড়ে তুলতে চাই।’
Advertisement
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি দেবাংশু। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার বিধানসভা ভোটে তাঁকে সামনে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। চুঁচুড়া কেন্দ্রে টানা তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে নতুন মুখ হিসেবে দেবাংশুর ওপর ভরসা রেখেছে দল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই কিছুটা অভিমান প্রকাশ করেছেন বিদায়ী বিধায়ক।
Advertisement
দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ওপর যে ভরসা রাখা হয়েছে, তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।’ একইসঙ্গে বিরোধী শিবিরকেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত নির্বাচনে তৃণমূলের শক্তি যেমন স্পষ্ট হয়েছিল, তেমনই কোথাও কোথাও দুর্বলতাও ছিল। এ বার সেই জায়গাগুলোতে আরও জোর দিয়ে কাজ করা হবে।
বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন দেবাংশু। তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা এখনও প্রার্থী দেয়নি। অপেক্ষা করছে আমরা কাকে দিচ্ছি, তারপর সিদ্ধান্ত নেবে।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গতবার বিজেপি যত আসন পেয়েছিল, এ বার তা অনেকটাই কমে যাবে।
বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দেবাংশু বলেন, ‘এখনও কথা হয়নি। তবে নিশ্চয়ই কথা বলব। আমি ওনার সন্তানের বয়সী। তিনি আমার কাছে পিতৃতুল্য। যতই মান-অভিমান থাকুক, শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।’
সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেইভাবেই কাজ করে চলেছি। আগামী দিনেও তাই করব।’
Advertisement



