রাজ্যে পালাবদলের পরই রাজ্য-রাজনীতির ছবিটা বদলে গিয়েছে। অন্যায়, অপরাধ করা তৃণমূল নেতারা গ্রেপ্তার হতে শুরু করেছে। জমি দখল, হুমকি থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে। বুধবার ভোররাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল। টাকি রোড সংলগ্ন সাকচুড়া বাজার এলাকা থেকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করে অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে।
এই শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। টাকি এলাকায় বেআইনিভাবে জমি দখল, ভয় দেখানো এবং প্রভাব খাটানো-সহ ভোট পরবর্তী হিংসায় শাহানুর মণ্ডলের নাম উঠে আসে। টাকির একাধিক জমিদার পরিবার তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। ওই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিঘার পর বিঘা জমি গায়ের জোরে দখল করার অভিযোগ রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এমনকী এসবের প্রতিবাদ করলে বাসিন্দাদের ভয় দেখানো পর্যন্ত হয় বলে অভিযোগ।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবং ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনের পর বসিরহাট এবং টাকি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস, ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিল শাহানুর বলে অভিযোগ। এই কারণে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখতে বিরোধীদের ভোট প্রচারে লাগাতার বাধা দেয় এই শাহানুর। বিরোধী নেতা-কর্মীদের হুমকি দেন। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বহুদিন ধরেই পুলিশ তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল।
তাছাড়া বুধবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে টাকি রোডের কাছে সাকচুড়া বাজার এলাকা থেকে শাহানুর মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফের এই পদক্ষেপে খুশি এলাকাবাসী। নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এলাকায়। শাহানুর মণ্ডল এখন হাসনাবাদ থানায়। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির নানা দিক খতিয়ে দেখছে। জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি ভোট পরবর্তী সময়ে এলাকায় হিংসা এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর বিজেপি নেতা শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বহুদিন ধরে বসিরহাটে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছিল এই শাহানুর মণ্ডল। এই নেতা আসলে একজন অবৈধ চোরাচালানকারী, মাফিয়া এবং গুন্ডা। এই ভয়ের কারণে এলাকার মা-বোনেদের চোখে জল পড়েছে। শাহানুর এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি এবং জমিজমা লুট করেছে। পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে অবৈধভাবে ভোট লুট করেছে।’




