চার্জশিটে অভিযুক্ত, পরে ‘সন্দেহভাজন’! কাজলকে গ্রেপ্তারির দাবিতে হাইকোর্টে মৃতের বাবা

Photo: Statesman

২০১৫ সালে জোড়া খুন। কেটে গিয়েছে প্রায় এক দশক। তবু শেষ হয়নি তদন্ত, শুরু হয়নি বিচারপ্রক্রিয়াও! পুলিশের চার্জশিটে একসময় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল কাজল শেখের। পরে তাঁকে ‘সন্দেহভাজন’ দেখিয়ে চার্জশিটে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এবার কলকাতা হাইকোর্টে হাজির মৃত কুরবান শেখের বাবা শেখ জিলাই। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক প্রভাবেই’ বারবার থমকে গিয়েছে তদন্ত ও বিচার।

বর্তমানে মামলাটি শুনানি চলছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। আবেদনকারীর আইনজীবীরা বিস্তারিত তথ্য আদালতে তুলে ধরেছেন।। আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং বোলপুর থানার ওসিকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মৃত কুরবান শেখের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ও আইনজীবী অরিত্র ঘোষ জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মূলুক থেকে বহিরির পথে পাঁচশোয়া নিমতলার কাছে কুরবান শেখ, বুড়ো শেখ ও মুরতজা শেখকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে। শেখ জিলাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বোলপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের তদন্তে কাজল শেখের নাম উঠে আসে। তাঁকে পলাতক দেখানো হয় এবং ২০১৮ সালে আদালত তাঁকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে।


এরপর তদন্তের একাধিক ধাপ পেরিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ নিম্ন আদালতে জমা পড়ে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। আবেদনকারীর অভিযোগ,  সেখানে কাজলকে ‘সন্দেহভাজন’ দেখিয়ে কার্যত মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন এই অবস্থান বদল, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও মেলেনি বলে দাবি। এর প্রতিবাদে বোলপুর আদালতে নারাজি পিটিশন করেন শেখ জিলাই। পরে বীরভূমের বাইরের পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে পূনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

আবেদনকারীর আরও দাবি, ঘটনার সময় বিধানসভায় থাকার প্রমাণ হিসেবে কাজলের দেওয়া গেট পাস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি নাম ও গেট পাসে ব্যবহৃত নামের অসঙ্গতির অভিযোগও তোলা হয়েছে। দশ বছরেও বিচার না হওয়ায় দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচারের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি আবেদনকারীর। কাজল শেখকে গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারের স্বার্থে মামলাটি বীরভূমের বাইরে স্থানান্তরের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: লুকোচুরি শেষ, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে ভবানীভবনে অভিষেকের আপ্তসহায়ক

এখন প্রশ্ন, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে দশ বছর আগের সেই খুনের মামলায় ফের গতি ফিরবে কি? রাজ্যের পালাবদল হয়েছে। সেদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস আজকে রাজ্যের বিরোধী আসনে। তবে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজ্য বিধানসভায় পা রাখলেও ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল অন্যদিকে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল। কাজল শেখ শিবির বদল করে বর্তমানে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলে রয়েছেন। আদৌ কি ছেলের মৃত্যুর সুবিচার পাবে বাবা?  রাজ্যের নতুন সরকার কি সুবিচার দিতে পারবে পুত্রহারা বাবাকে?  সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কুরবান শেখের পরিবার।