কলকাতায় টানা বৃষ্টি, দক্ষিণের ছয় জেলা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

ছবি: বিশ্বজিৎ ঘোষাল

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। তার রেশ চলছে শুক্রবার সকালেও। কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে মাঝে মধ্যে বৃষ্টির দাপটও বাড়ছে। ইতিমধ্যেই শহরের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামী অন্তত চার দিন কলকাতায় বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। একই ধরনের আবহাওয়া পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলাতেও। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় আগামী বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত চলতে পারে।

ছবি: বিশ্বজিৎ ঘোষাল

এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ, এই ছয় জেলায় শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিনই কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।


আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্ষাকালীন অক্ষরেখা বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলে প্রবেশ করছে। সেই কারণেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

ছবি: বিশ্বজিৎ ঘোষাল

উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলাতেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর জেরে পাহাড়ি নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পাবে এবং পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। যার প্রভাবে সমুদ্র থাকবে উত্তাল। শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবারর শহরের সর্বোচ্চ তাপামাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম।