• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 4 October, 2026

মন্ত্রী-বিধায়কদের বিরুদ্ধে নানা মামলা, মামলাকারীর সম্পর্কে পুলিশ রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

তাছাড়া তাৎপর্যপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটি হল, মামলাগুলি দায়ের হয়েছে বিল্ডার, ডেভেলপার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে

মন্ত্রী-বিধায়কদের বিরুদ্ধে নানা মামলা, মামলাকারীর সম্পর্কে পুলিশ রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

এক মামলাকারী মন্ত্রী থেকে বিধায়কদের বিরুদ্ধে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে চলেছে। শুধু তাই নয়, বিল্ডার-ডেভেলপার-ঠিকাদার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করে চলেছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে এমন ঘটনা ঘটে চলায় সন্দেহ হয় প্রধান বিচারপতির। কারণ তাঁর কাছেও একটি মামলা এসে পড়ে। আর তখনই এই মামলাকারী সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হয়। বিশেষ করে মন্ত্রী থেকে বিধায়ক এবং সাধারণ মানুষ কাউকে বাদ দেননি ওই মামলাকারী। আর তাই ওই মামলাকারীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সরাসরি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে।

যেসব মামলা এই মামলাকারী করে চলেছেন তার কোনও সারবত্তা নেই বলেই আদালত সূত্রে খবর। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বারবার এমন মামলার উপর পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটা বিষয় মনের মতো না হলেই অন্য একটি বিষয়ে একই ব্যক্তির উপর, কখনও ভিন্ন ব্যক্তির উপর মামলা করে যাচ্ছিলেন। এমনকী কিছু বিষয় এমন রয়েছে সেটা জনস্বার্থ হিসাবে দেখিয়ে মামলা করা হচ্ছিল। যা নজরে পড়ে বিচারপতিদের। আর এবার শুধু তদন্তই নয়, যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ।

এই মামলাকারী সম্পর্কে গুরুতর পদক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোর চর্চা শুরু হয়ে যায়। কারণ আগে এমন ঘটেনি। একজন ব্যক্তির উপর আক্রোশের ফলে মিথ্যে মামলা আগে হয়েছে। তা ধরাও পড়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং মামলাকারী একজনই এমন নজির নেই। কদিন আগে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়েছিল। তাতে মামলাকারী নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে উল্লেখ করেন। আর গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মানুষের স্বার্থে মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবিও করেন। এমনকী মামলাকারী গত ১৬ বছরে কলকাতা হাইকোর্টে মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করেছেন বলে সূত্রের খবর। বেশিরভাগ মামলা জনস্বার্থ মূলক।

তাছাড়া তাৎপর্যপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটি হল, মামলাগুলি দায়ের হয়েছে বিল্ডার, ডেভেলপার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। এমনকী মন্ত্রী এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি থাকার অভিযোগেও একাধিক মামলা দায়ের করেছেন তিনি। তাই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ শুনানিতে জানিয়েছেন, স্রেফ মামলাকারীর অনুপস্থিতির কারণে এখনও একাধিক মামলা ঝুলে আছে। তাই ওই মামলাকারীর সম্পর্কে পুলিশের রিপোর্ট তলব করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণ, যদি দেখা যায় মামলাগুলির পিছনে ওই ব্যক্তির অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, সেক্ষেত্রে মামলাকারীর বিরুদ্ধে আদালত কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।