ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে কার্যত লন্ডভন্ড পরিস্থিতি। কিন্তু এদিকে কলকাতার ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারে অন্যরকম। অর্ণবের প্রভাবে কলকাতায় কার্যত সাপে বর হয়েছে। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নাকি মহানগরীতে বায়ুদূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবে সামনে কালীপুজো ও দীপাবলির মতো উৎসব থাকায় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা দূষণ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এর ফলে শহরে দূষণের মাত্রা কমেছে। বিশেষজ্ঞরা ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনকেও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন। অন্যান্য বছরগুলিতে কালীপুজো ও দীপাবলির সময়ে কলকাতার বাতাসের গুণমান খারাপ হতে শুরু করে।
এই সময়ে শহরে বায়ুদূষণের সূচক ২০০ পেরিয়ে যায়। সেখানে মঙ্গলবার কলকাতার বায়ুদূষণ সূচক ছিল ৯৮। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ সূত্রের খবর, সামনেই কালীপুজো ও দীপাবলির মতো বড় উৎসব রয়েছে। সেই সময়ে দূষণ আটকাতে বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বাজি পোড়ানোর সময়সীমা বেঁধে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত করে দেওয়া হবে।
পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে রাজ্যে ফের বৃষ্টিপাত চলছে। এখন দূষণও কম রয়েছে। কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ কালীপুজো ও দীপাবলি। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে কড়া হাতে বাজি পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে শহরের বাতাসে এই স্বস্তিটুকুও থাকবে না।’
আরও পড়ুন: ভোটের আগে কলকাতার ওয়ার্ড-মানচিত্র বদল! ১৪৪-২০৯, ডিলিমিটেশন ঘিরে হাইকোর্টে তীব্র সংঘাত
অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘চলতি বছর কালীপুজোর আগে বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কম। বলা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর পিছনে দু’টি কারণ রয়েছে। একদিকে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। ঘনঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর কলকাতায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কিছুটা বেশি ছিল। দুর্গাপুজোর সময় নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে উৎসবের সময় দূষণের মাত্রা যে হারে বাড়ে, এবার তা আর বাড়েনি।’