ফুটপাতবাসী মহিলাকে সরে যাওয়ার নির্দেশের পর ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার

Image: SNS

ফুটপাতবাসী এক মহিলাকে ফুটপাত ছেড়ে উঠে যাওয়ার  নির্দেশ ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে চাপান-উতোর তুঙে। সেই বিতর্কে নাম জড়িয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। শনিবার পার্কস্ট্রিট পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।  সেই সময় রাস্তার উপরে এক বৃদ্ধা    তখন ফুটপাতেই তাঁর শিশুসন্তানের জন্য দুধ গরম করছিলেন। মন্ত্রী ওই মহিলাকে ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফুটপাতে কেন শিশুর দুধ গরম করা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি প্রশ্নও তোলেন।

সেখানেই শিশুর জামা-কাপড় শুকতে দেওয়া ছিল। তাও তিনি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর ওই নির্দেশের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। সমাজমাধ্যমেও বহু মানুষ মন্ত্রীর আচরণ নিয়ে সরব হন।

আরও পড়ুন: ভোররাতে ফের আগুনের গ্রাসে কলকাতা, যশোর রোড়ে পুড়ে ছাই ২২ গাড়ি


এই ঘটনা নিয়ে আরও নতুন রাজনৈতিক মাত্রা  যুক্ত হয়। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ রবিবার ঘটনাস্থলে যান। সেখানে  গিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও একের পর এক প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁদের বক্তব্য, গৃহহীন এক মহিলাকে তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে ফুটপাত থেকে সরে যাওয়ার জন্য যে ভাবে  বলা হয়েছে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

<iframe src=”https://www.facebook.com/plugins/video.php?height=476&href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Freel%2F1622318446235403%2F&show_text=false&width=267&t=0″ width=”267″ height=”476″ style=”border:none;overflow:hidden” scrolling=”no” frameborder=”0″ allowfullscreen=”true” allow=”autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share” allowFullScreen=”true”></iframe>

এই আবহেই এ বার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা। বিরোধীদের আক্রমণ করে মন্ত্রীর দাবি, শিশুটির জন্য কেউ দুধের বাটি এগিয়ে দেননি, অথচ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘শিশুটির জন্য কেউ দুধের বাটি এগিয়ে দিলেন না, কিন্তু সবাই রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকছেন।’

আরও পড়ুন: অমরাবতী হাসপাতালের NICU-তে ভোররাতে আগুন, মৃত্যু তিন সদ্যোজাতের, আশঙ্কাজনক ৩৯ জন

অগ্নিমিত্রার আরও দাবি, তাঁরা বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছেন। সেই কারণেই বিরোধীদের ‘গাত্রদাহ’ হচ্ছে। একই সঙ্গে ফুটপাতবাসী এবং দরিদ্র মানুষের জন্য তাঁদের সরকার আবাসন তৈরি করবে বলেও ভিডিওতে জানান তিনি।

তবে ঘটনার সময় ওই মহিলার সঙ্গে যে ভাবে কথা বলেছিলেন, তা যে রূঢ় ছিল, ভিডিও সে কথাও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি যে ভাবে কথা বলেছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ফুটপাতবাসীদের জন্য স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা।

ঘটনার পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, শহরের ফুটপাতবাসীদের উচ্ছেদ বা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত। এক দিকে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি, অন্য দিকে গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের প্রশ্ন—দুইয়ের মাঝেই মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের একাংশও  প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র ফুটপাতবাসী এক মহিলাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা না থেকে রাজনীতি, মানবিকতা এবং পুনর্বাসনের প্রশ্নেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

দেখুন: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা