বুধবার ভোর রাতে কলকাতা বুকে ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (New Market Fire) । নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে (New Market Fire)। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুসারে নয় জনের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশের। তবে এখনও সবার পরিচয় জানা যায়নি। প্রামথিমভাবে মনে করা হচ্ছে নয় জনের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি।
দেখুন: ‘চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছি’, হোটেল অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্কিত বাংলাদেশি নাগরিক
এই ঘটনায় আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ‘শিখা ইন’ নামে ওই হোটেলটি তাঁর নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বুধবার রাতে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাশাপাশি হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা এই আবু জাফর। তাঁকে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনটিতে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস ছিল (New Market Fire)। ভবনের তৃতীয় তলায় প্রায় ১১০০ বর্গফুট জায়গায় ছিল ‘শিখা ইন’। ছোট জায়গার মধ্যে ছোট ছোট একাধিক ঘর তৈরি করা হয়েছিল। হোটেল পরিচালার ক্ষেত্রেও একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবন ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন (New Market Fire) উঠেছে। আবাসিক ভবনটিকে নিয়ম না মেনে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ঘটনার তদন্তে বুধবারই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে কলকাতা পুলিশ। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই ‘শিখা ইন’-এর ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, এই রকম একটি এলাকায় কীভাবে নিরাপত্তাবিধি না মেনে একাধিক হোটেল চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারি এবং পুরসভার ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। অগ্নিকাণ্ডের জন্য মমতার সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বিষয়গুলি থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
দেখুন: নিউ মার্কেটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিমিত্রার নিশানায় পুরনো সরকার