স্মার্টফোন সারাতে দিয়েছিলেন তরুণী। বিশ্বাস করেছিলেন দোকানদারকে। কিন্তু সেই দোকানদার তরুণীর মোবাইল ঘাঁটতে থাকে। আর সেখান থেকে একাধিক ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও দেখেন। তারপর সেই ভিডিওগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। সেই ভিডিওগুলি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর সেইসব ভিডিও চোখে পড়ে তরুণীর বন্ধুবান্ধবদের। তাঁরাই তরুণীকে সবটা জানান। তারপর বন্ধুদের ফোনে সেসব দেখে হতবাক হয়ে যান তরুণী। সমাজমাধ্যমে অনেকে ট্রোল করতে থাকেন। রীতিমতো কুপ্রস্তাব আসতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে পড়ে ওই তরুণী সংশ্লিষ্ট দোকানদারের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েন ওই তরুণী। এমন ঘটনা যে ঘটবে সেটা ভাবতেই পারেননি তরুণী। কল্পনাও করতে পারেননি যে, তাঁর খোলামেলা পোশাকের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। মোবাইল ফোন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ওই তরুণীর। তাই দোকানে সারাতে দিয়েছিলেন। ওই ফোন থেকেই তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে দোকানদারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা থেকেই শুরু হয় সমাজমাধ্যমে ট্রোলিং। এমনকী এই ঘটনার কথা তরুণীর পরিবারের সদস্যরাও জানতে পেরে যান। তার জেরে কথা বলা বন্ধ করে দেন তরুণীর মা-বাবাও। লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতার বাসিন্দা ওই তরুণী।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘরে-বাইরে বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন ওই তরুণী। বাড়িতে কেউ কথা বলছে না, বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে, কেউ সাহায্য করছে না, রাস্তায় বের হতে পারছেন না এবং সমাজমাধ্যমে ক্রমাগত কুপ্রস্তাব আসছে। সেসব ঠেকানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সমাজকে কী বোঝাবেন? সেটা বুঝতে পারছেন না ওই তরুণী। এই আবহে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তরুণী জানান, কী ভয়াবহ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে। তরুণী বলেন, ‘খুব সাধারণ একটা সমস্যার জেরে মোবাইল ফোন সারাতে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাই যে এমন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে সেটা ভাবতে পারিনি। আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মানসিক অশান্তির মধ্যে দিন কাটছে।’
তাছাড়া সমাজমাধ্যমে অনেকেই অশালীন কথাবার্তা বলছেন তরুণীকে। সেসব দেখে চোখে জল চলে আসছে তাঁর। অনেকেই তাঁকে খারাপ ভাবছেন এবং খারাপ চোখে দেখছেন বলে অভিযোগ করেছেন তরুণী। ওই তরুণীর কথায়, ‘আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। আমার মা-বাবা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। সব সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছি। ফোন নম্বর বদলে ফেলেছি। হয়রানির মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ করে দিয়েছি। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছি না। আমি আর বাড়ির বাইরে যাই না। মানুষকে এড়িয়ে চলি। আমার পুরো জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জানি না, এখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব।’




