ঊনিশ শতকের ছত্তিশগড়ে জাতপাতের বৈষম্যের কারণে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল রামনামী সম্প্রদায়ের মানুষ। ঈশ্বরসাধনায় সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরা বেছে নেন এক ব্যতিক্রমী পথ। প্রচলিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাধা উপেক্ষা করে শরীরে উল্কির মাধ্যমে রামনাম খোদাই করা এবং সাত্ত্বিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে নিরন্তর রামভজন হয়ে ওঠে তাঁদের সাধনার প্রধান অঙ্গ। তাঁদের কাছে শরীরই হয়ে ওঠে বিশ্বাসের প্রকাশ এবং প্রতিবাদের মাধ্যম। এস চলমান মন্দির, যেখানে ঈশ্বরের আরাধনায় কোনও বাহ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: উমা চারদিন বাপের বাড়িতে থাকলে মহাদেব কি তাঁকে চোখে হারান?
প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য ও ধর্মদর্শনের বিভিন্ন ধারাতেও মন্দিরকে মানবদেহের প্রতিরূপ এবং দেবত্বের আবাস হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। গর্ভগৃহের নিভৃত পরিসরে যেমন আবিষ্ট থাকেন আরাধ্য দেবতা, তেমনই মানুষের অন্তরেও নিহিত থাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধির সম্ভাবনা। রামনামীদের উল্কিচিহ্নিত শরীর যেন এই দেহতত্ত্বেরই এক জীবন্ত প্রকাশ— যেখানে ভক্তি পাথরের স্থাপত্যে নয়, খোদিত রয়েছে আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিটি রেখায়। মানবদেহই সাধনার ক্ষেত্র, আর অন্তরের নিষ্কাম প্রেমই ঈশ্বরলাভের পথ।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: শুরু হয়ে গিয়েছে প্যান্ডেল হপিং, কলকাতার এই পুজোগুলো ঘুরে দেখতে পারেন
সম্পাদক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘রম’ ধাতু থেকে উদ্ভূত ‘রাম’ শব্দের অর্থ আনন্দ করা বা রমণ করা; যিনি সর্বভূতে বিরাজ করেন এবং যাঁর মধ্যে সকলের আনন্দ, তিনিই রাম। সেই সর্বব্যাপী সত্তাকে কী কেবল মন্দিরের বিগ্রহেই খুঁজব, নাকি অনুভব করব নিজের অন্তরের গভীরে? সেই উত্তর খোঁজার তাগিদেই শিল্পী কুশানু পাল, কেষ্টপুর প্রফুল্লকানন (পশ্চিম) আদিবাসীবৃন্দের এই বছরের পুজোর ক্ষেত্র সাজিয়েছেন— ‘যাহাতে মন রমি’। পুজোর মুখ্য উপদেষ্টা বিধায়ক তরুণ জ্যোতি তেওয়ারির কথায় ভিড়ের নিরিখে সবার নজর কাড়বেই।
দেখুন:




