সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে গত রবিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তে নেমে ২৫০ জনকে চিহ্নিত করল বিশেষ তদন্তকারী দল। তাঁদের মধ্যে উপাচার্য-সহ প্রতিষ্ঠানের ১০ জন কর্তৃপক্ষ, ১০ জন কমিউনিস্ট ছাত্রনেতা এবং এবিজিপির দু’জন সদস্য-সহ মোট ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে ছ’পাতার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিট।
অশান্তির ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের তরফে দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের তরফেও একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এরপরই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
লালবাজার সূত্রের খবর, বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে সিটের সদস্যরা এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে যান। তদন্তকারীদের হাতে আসা একাধিক ভিডিয়ো এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন, এমন ২৫০ জনকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিহ্নিতদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য-সহ ১০ জন কর্তৃপক্ষ, ১০ জন কমিউনিস্ট ছাত্রনেতা এবং এবিজিপির দু’জন সদস্য রয়েছেন। এবিজিপির ওই দুই সদস্যকে পঞ্চসায়র থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, রাত ৮টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলে।
প্রাথমিক তদন্তে অশান্তির ঘটনায় দু’পক্ষেরই জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। অশান্তি পাকানোর ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট ছাত্রদের ভূমিকা রয়েছে বলেও মনে করছে সিট। তবে ঠিক কারা অশান্তির নেপথ্যে ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে জানায়নি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখবন্ধ খামে ছ’পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে নবান্ন যে নির্দেশ দেবে, পরবর্তী পদক্ষেপ সেই অনুযায়ী করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।




