পশ্চিমবঙ্গের আগের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় বুথের ভিতরে বসানো ওয়েবক্যাম নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দুই নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত বহু ক্যামেরায় কোনও রেকর্ডিংই পাওয়া যায়নি। এই অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই কমিশন আগের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার ওয়েবক্যামের ফুটেজ সম্প্রতি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। সেই সময়ই দেখা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যামেরায় একেবারেই কোনও ভিডিও রেকর্ডিং নেই। আবার আরও প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যামেরায় কেবলমাত্র ভোটগ্রহণ শুরুর আগের আধ ঘণ্টা এবং শেষের আধ ঘণ্টার ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ভোট চলাকালীন মূল সময়ের কোনও ভিডিও সেখানে রেকর্ড হয়নি।
Advertisement
এই পরিস্থিতি সামনে আসার পর কমিশন নতুন করে টেন্ডার ডেকে ওয়েবক্যাম সরবরাহের জন্য বাইরের রাজ্যের তিনটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই তিন সংস্থাই রাজ্যের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সরবরাহ করবে। কমিশনের দাবি, আগের নির্বাচনে যেসব ক্যামেরা কাজ করেনি, তার মধ্যে অনেকগুলোই স্পর্শকাতর বা সংবেদনশীল বুথে বসানো ছিল। ওইসব এলাকায় ভোটের দিন অশান্তির অভিযোগও উঠেছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ না থাকায় সেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
Advertisement
এই অভিজ্ঞতা থেকেই কমিশন নজরদারি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। নতুন ব্যবস্থায় শুধু ভোটকেন্দ্রের ভিতরেই নয়, কেন্দ্রের বাইরেও ওয়েবক্যাম বসানো হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, যেখানে ১৫২টি আসনে নির্বাচন হবে। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল, ১৪২টি আসনে। সবশেষে ভোটগণনা হবে আগামী ৪ মে।
Advertisement



