কোমায় চলে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রী নীলম শিণ্ডের পরিবারকে ভিসা দিল মার্কিন দূতাবাস। ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন নীলম। কোমায় চলে যান তিনি, কিন্তু ভিসা পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের বিষয়টি তুলে ধরার পর বিদেশ মন্ত্রক হস্তক্ষেপ করে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সরকারও সহায়তা করে। এরপর শুক্রবার সকালেই ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পান নীলমের বাবা ও ভাই। সেখানেই তাঁদের ভিসার অনুমোদন দেয় মার্কিন দূতাবাস।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী নীলম শিণ্ডে মহারাষ্ট্রের সাতারার বাসিন্দা। ১৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন নীলম। তাঁকে আচমকা পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে একটি চারচাকার গাড়ি। নীলমকে পিষে দিয়ে সেই গাড়ি চলে যায়। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার ফলে নীলমের দুই হাত, দুই পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। চোট লেগেছে মাথায়ও। তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সার্জারির পর থেকে কোমায় রয়েছেন তিনি।
Advertisement
১৬ ফেব্রুয়ারি নীলমের বাবা-মা দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন। তাঁরা আমেরিকার ভিসার জন্য চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভিসার ইন্টারভিউয়ের তারিখ পড়েছিল আগামী বছর। এরপর গোটা বিষয়টি হস্তক্ষেপ করেন সুপ্রিয়া সুলে। বিদেশ মন্ত্রকও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। ভারতের হস্তক্ষেপে আমেরিকার প্রশাসন নীলমের পরিবারের আর্জি মঞ্জুর করেছে। নীলমের বাবা তানাজি শিণ্ডে ভিসা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার, মহারাষ্ট্র সরকার, সুপ্রিয়া সুলে ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
Advertisement
সান ফ্রান্সিসকোর ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল ওই পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। নীলমের বাবা, কাকা ও দাদা শুক্রবার ভিসা হাতে পেয়েছেন। শনিবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তাঁরা। নীলমের বাবা জানিয়েছেন, মেয়েকে সুস্থ করে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আমেরিকা যেতে ও মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে শিণ্ডে পরিবার।
Advertisement



