• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 23 September, 2026

১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি দুই কমিশনারের, অন্তর্বিরোধ অস্বীকার নির্বাচন কমিশনের

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এটি সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কাজ করা একটি বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনও সিদ্ধান্তের খসড়া পর্যায়ে লিখিত নোট, প্রযুক্তিগত পরামর্শ বা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতবিরোধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়

১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি দুই কমিশনারের, অন্তর্বিরোধ অস্বীকার নির্বাচন কমিশনের

Image: SNS

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR  ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অন্দরে মতবিরোধের অভিযোগ খারিজ করল কমিশন (Election Commission)। কমিশনের দাবি, SIR  সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের (Election Commission) তরফ থেকে গত ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানানোর যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ একটি বিবৃতি জারি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কমিশন (Election Commission)।

কমিশনের (Election Commission) তরফে জানানো হয়েছে, এটি সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কাজ করা একটি বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনও সিদ্ধান্তের খসড়া পর্যায়ে লিখিত নোট, প্রযুক্তিগত পরামর্শ বা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া কমিশনের (Election Commission) অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতবিরোধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বক্তব্য, ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে খসড়া পর্যায়ে সদস্যদের প্রশ্ন তোলা বা কোনও বিষয়ে সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া স্বাভাবিক। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিন্ন মত থাকাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ। শুধু তিন নির্বাচন কমিশনারই (Election Commission) নন, কমিশনের যে কোনও আধিকারিকই নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: ৩ দিন দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার খোলা ব্যাঙ্ক

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত নথিভুক্ত এই আপত্তিগুলির মধ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটারের নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আবেদন এবং ভোটার তালিকায় সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার মতো বিষয় ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি আপত্তিতে সান্ধু অভিযোগ করেছিলেন, দুই কমিশনারের লিখিত পরামর্শের বিরুদ্ধেই কমিশনের তরফে পদক্ষেপ করা হয় এবং সেটিকে তিনি ‘অননুমোদিত’ ও ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ SIR  সংক্রান্ত প্রশ্ন যোগ করা নিয়েও দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

আরও একটি বিষয় হল কমিশনের (Election Commission) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা। ভোটার তালিকা পরিচালনার সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি কেন্দ্রীয়করণের অভিযোগ নিয়ে সান্ধু ও জোশী পৃথকভাবে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, কাজের বণ্টনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ভোটার তালিকার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর উপর তাঁদের নজরদারি কমে যায়।

আরও পড়ুন: আইআইটি বম্বের অধ্যাপককে ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ, অনশনের হুমকি বাবা-মায়ের

২০২৩ সালের আইনে কমিশনের (Election Commission) কাজ যতটা সম্ভব সর্বসম্মতির ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে করার কথা বলা হয়েছে। মতভেদ হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে। এই বিধানকে সামনে রেখেই ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দুই কমিশনারে ধারাবাহিক আপত্তিকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনর ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বলেছে, খসড়া পর্যায়ের মতামত বা আপত্তি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মতবিরোধের সমান নয়।

সারা দেশজুড়ে SIR  নিয়ে বিতর্ক চলছে। আর তার মধ্যেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালে বিহারে ভোটের আগে SIR  চালু হয়। এরপর একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও SIR  করা হয়। কমিশনের (Election Commission) দাবি ছিল, এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে। অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করে এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং কমিশনের(Election Commission) অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

দেখুন: ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর সাফল্যের মুকুটে জাতীয় পুরস্কার, সেরা শিশুশিল্পীর সম্মান