মঙ্গলবার ফের গঙ্গাসাগর থেকে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘এসআইআর নিয়ে ভুলভাল কাজ করছে কমিশন’ ফের এই অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে কমিশন অ্যাপ বানিয়েছে বলেও নিশানা করেন মমতা। বিষয়টিকে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক’ বলে মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভুলভাল করছে কমিশন। জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের নাকে নল পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।‘ সোমবার মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে সরকার আইনি পথে লড়বেন বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement
গঙ্গাসাগর থেকে তৃণমূল নেত্রীর বার্তার পরই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। আদালতে তাঁর আবেদন, বাংলায় এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হোক। এই প্রক্রিয়ায় কমিশনের একাধিক ভুল রয়েছে বলেও সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছেন ডেরেক।
Advertisement
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, অভিযোগ তৃণমূলের৷ এর জন্য কোনও নোটিস পাঠানো হয়নি বা কোনও শুনানি হয়নি বলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে। ডেরেক বলেন, ‘গত ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এর জন্য কোনও ব্যক্তিগত শুনানি হয়নি৷ কাউকে নোটিস পাঠানো হয়নি৷ ২০২৫ সালে স্পেশাল সামারি রিভিশনের পর ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ ভোটারের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমে হয় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬১৬ ৷ ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে বিস্তারিত এসওপি জারি করেছিল, এই ঘটনা তার পরিপন্থী৷’
মামলায় এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কমিশনকে একাধিকবার ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন বুথ লেভেল অফিসার ও অন্যান্য অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপের মতো ‘অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে’র মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে অভিযোগ ডেরেকের। যার ফলে নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত আনা হয়েছে।
অতিরিক্ত সিইও-র তরফে জারি করা স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা পিডিএফ রেকর্ডগুলিকে সিএসভি ফরম্যাটে রূপান্তর করে ডিজিটালাইজ করার সময় ভোটার ডেটা ম্যাপিংয়ে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়াটি তৃণমূল স্তরের যাচাইকরণ বা বুথ স্তরের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ছাড়াই করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সূত্র মারফত খবর, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ৪ জানুয়ারি চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা’ কোনও অনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই চালানোর অভিযোগ তোলেন মমতা। সাড়ে তিন পাতার চিঠিতে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এগুলির সমাধান না-হলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগে ২০ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা।
এই চিঠি দেওয়ার পরদিন সোমবার গঙ্গাসাগরে গিয়ে মমতা জানান, আইনি পথেই হবে মোকাবিলা ৷ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মঙ্গলবার কোর্ট খুলবে, আমরাও আইনে যাব ৷ এত মানুষের মৃত্যু, এত মানুষকে যেভাবে হেনস্থা করেছে তার বিরুদ্ধে৷’ এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল শাসকদল ৷
Advertisement



