২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন কোনও অর্থ বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে এই বন্দর প্রকল্পে প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হত ভারতের পক্ষ থেকে। এ বছর সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর কৌশলগতভাবে ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বন্দর ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চাবাহারের মাধ্যমে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়ার দেশগুলি, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা সম্ভব। দিল্লি এবং তেহরান যৌথভাবে এই বন্দর প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে।
Advertisement
তবে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাদ্দের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যদিও দিল্লিকে ৬ মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল, সেই মেয়াদ এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।
Advertisement
গত মাসে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে বন্দর ব্যবহার এবং মার্কিন শর্ত নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। দেখছি কী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’ এদিকে, গত মাসে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে যুক্ত দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করা হয়, যা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নতুন বরাদ্দ না থাকায় বাজেটের এই সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার দিক থেকে বিশেষ নজরকাড়া। চাবাহার বন্দর ভারতের ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Advertisement



