জামিনের আবেদনে অযথা গড়িমসি বরদাস্ত নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে আদালতের দেরি অমার্জনীয়। এমনটাই জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সমস্ত হাইকোর্টকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, জামিন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে করতে হবে। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, অযথা জামিনের আবেদন ঝুলিয়ে রাখা অবিচার এবং তা ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ‘সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে সমতার অধিকার ও ২১ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত। কিন্তু বছরের পর বছর জামিনের আর্জি ঝুলে থাকলে সেই অধিকারই লঙ্ঘিত হয়।’ এদিনের পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কিত আবেদনগুলি বছরের পর বছর মুলতুবি রাখা যায় না। এর ফলে শুধু বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ব্যাহত হয় না, নাগরিকের মৌলিক অধিকারও খর্ব হয়।’
Advertisement
বম্বে হাইকোর্টের একটি নির্দিষ্ট মামলাকে কেন্দ্র করেই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। ২০১৯ সালে একটি জামিনের আবেদন দায়ের করা হয় বম্বে হাইকোর্টে। বিভিন্ন কারণে বারবার পিছিয়ে যেতে যেতে মামলাটি ২০২৫ সালে পৌঁছয়। ছয় বছর পরে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এই দীর্ঘসূত্রিতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী।
Advertisement
শীর্ষ আদালত তার রায়ে বম্বে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও, জামিন আবেদনের শুনানিতে ছয় বছরের দেরি নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অন্তর্বর্তী জামিন হোক বা স্থায়ী জামিন, মামলার প্রথম শুনানির মধ্যেই তা নিষ্পত্তি করতে হবে। অবশ্য, আবেদনকারী নিজে যদি বিলম্ব ঘটান, তবে তা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছোটখাটো অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। সেই সব ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়াও দেরিতে শুরু হয়। ফলে বছরের পর বছর বিনা বিচারে অভিযুক্তদের জেলে থাকতে হয়। সেই সমস্যাকে মৌলিক অধিকার ভঙ্গের শামিল হিসাবে মনে করছে শীর্ষ আদালত। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, জামিন মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে দু’মাসের মধ্যে।
শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল বলেই মত আইন বিশেষজ্ঞদের। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে। বহু অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে জামিনের অপেক্ষায় থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ কার্যকর হলে তাঁদের অধিকার রক্ষিত হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি আসবে।
Advertisement



