• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 1 July, 2026

সরকার ফেলার চক্রান্তের অভিযোগ, ডিএমকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি বিজয়ের

ডিএমকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপত্রের দাবি, টিভিকে সরকারের হাতে কোনও শক্ত প্রমাণ নেই

সরকার ফেলার চক্রান্তের অভিযোগ, ডিএমকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি বিজয়ের

ক্ষমতায় আসার ২ মাসও হয়নি। এর মধ্যেই তাঁর সরকার ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। তাঁর দাবি, সরকারের অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে দলত্যাগ করিয়ে সরকার ভাঙার জন্য মাথাপিছু ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় ডিএমকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এমকে স্ট্যালিনের দল।

ঘটনার সূত্রপাত টিভিকে-র উথানগারাইয়ের বিধায়ক এন ইলাইয়ারাজার অভিযোগ থেকে। তিনি চেন্নাই পুলিশের কাছে জানান, একটি কনসালটেন্সি সংস্থার প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযোগ, তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য তাঁকে ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন চেন্নাই থেকে এবং ২ জন তিরুচিরাপল্লি থেকে ধরা পড়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের সঙ্গে ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সেন্থিল বালাজির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ গোটা ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় কোন চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দাবি, শুধু একজন নন, মোট ১৫ জন টিভিকে বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রত্যেককে ৩৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা দল ছেড়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। টিভিকে-র অভিযোগ, ডিএকে-র তথাকথিত কারুর গ্যাং এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে। দলের মন্ত্রী সিটিআর নির্মলকুমার আরও দাবি করেছেন, ডিএমকে-র কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা দীর্ঘদিন ধরেই টিভিকে বিধায়কদের কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন।

তবে ডিএমকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপত্রের দাবি, টিভিকে সরকারের হাতে কোনও শক্ত প্রমাণ নেই। তদন্তের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রমাণ থাকলে সেন্থিল বালাজিকে গ্রেপ্তার করা হোক।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় এসেছে বিজয়ের দল টিভিকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেস, আইইউএমএল, সিপিআই ও সিপিএম-সহ কয়েটি দলের সমর্থনে জোট সরকার গঠন করেছে তারা। সেই কারণেই সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।এখন তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।