পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট ঘোষণার আগে কেন্দ্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি দিল্লি যান। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
বিধানসভার বাজেট অধিবেশন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। সেই কারণে মঙ্গলবার রাতেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠক শেষে তিনি কলকাতায় ফিরে বাজেট প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার প্রথমে নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। এরপর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীমারমণের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকগুলি বিশেষ অর্থবহ।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলার আর্থিক সঙ্কট থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

তবে দিল্লির বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি শুধু জানিয়েছেন, বাজেট সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাবে না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা দরকার। আবার কিছু ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকেও নিজস্ব উদ্যোগ নিতে হবে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্বারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের এই বাজেটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো বিষয়গুলি বাজেটে কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।




