চার দশকের বফর্স কাহিনির সমাপ্তি, ফের মামলা শুরুর আর্জিতে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের

File Photo

প্রায় চার দশক ধরে দেশের রাজনীতি ও আদালতের অন্দরে আলোচিত বফর্স মামলার (Bofors Case)  আইনি লড়াইয়ে অবশেষে ইতি টানল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । ২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে মামলা চালানোর আবেদন করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অজয় কে অগ্রবাল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আবেদন শুনতেই রাজি হল না শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, এত বছর পুরনো একটি মামলা আর কতদিন টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ?

শুনানির সময় অজয় অগ্রবাল জানিয়েছিলেন, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা ও গোপীচাঁদ পি হিন্দুজা প্রয়াত হয়েছেন। তাই আবেদনপত্র থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময় দিতে রাজি হয়নি আদালত। বেঞ্চের বক্তব্য, বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত করার কোনও কারণ নেই।

আরও পড়ুন: আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ডিএমকে


বফর্স মামলায়  (Bofors Case)সুইডেনের অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এবি বফর্স এবং হিন্দুজা গোষ্ঠীর কর্ণধার শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ ও প্রকাশ হিন্দুজার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ১৯৮৬ সালের কামান কেনার চুক্তিতে ঘুষের লেনদেন হয়েছিল। তবে ২০০৫ সালের ৩১ মে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)  সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছিল, হিন্দুজা গোষ্ঠী বা বফর্স সংস্থার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া বা অবৈধ কমিশন পাওয়ার মতো কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সিবিআই হাজির করতে পারেনি।

সিবিআইয়ের দেওয়া সুইডেনের কিছু নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সেগুলি মূল নথি নয়, তাই সেগুলিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। পরে ২০১৮ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায় সিবিআই। কিন্তু সেই আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যেতে তদন্তকারী সংস্থার ৪,৫২২ দিন দেরি হল কেন, তা জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত।

বফর্স কেলেঙ্কারির (Bofors Case) সূত্রপাত ১৯৮৭ সালে। তার এক বছর আগে, ১৯৮৬ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) সরকারের আমলে সুইডেনের সংস্থা এবি বফর্সের সঙ্গে ১,৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। ভারতীয় সেনার জন্য ৪০০টি ১৫৫ মিমি হাউইৎজার কামান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে সুইডিশ রেডিওর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই চুক্তি পেতে ভারতীয় রাজনীতিক ও প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। এরপরই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশের জন্য গুলি খেয়েছেন, আর আপনি ডিমের ভয় পাচ্ছেন?’ মহুয়ার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

বছরের পর বছর ধরে এই মামলা দেশের রাজনীতিতে অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে থেকেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর (Rajiv Gandhi) নামও এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কার্গিল যুদ্ধের সময় বফর্স কামানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের ফলে বফর্স মামলাকে ফের চালু করার আর কোনও আইনি পথ কার্যত থাকল না। দীর্ঘদিনের এই বিতর্কিত মামলার আইনি অধ্যায়ের এখানেই সমাপ্তি বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।  

দেখুন: দিল্লিতে মোদী বৈঠক নিয়ে কাকলির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য