• facebook
  • twitter
Monday, 6 April, 2026

১৯টি ট্রাইব্যুনালকে একই প্রক্রিয়ায় কাজ করার পাশাপাশি নতুন কমিটি গড়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনে সহযোগিতা এবং সোমবার রাতেই তালিকা প্রকাশের নির্দেশ

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এসআইআর মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্যের ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত আপত্তির নিষ্পত্তির বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই লক্ষ্যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই কমিটিতে তিনজন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই কমিটিই ট্রাইব্যুনালগুলির জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি বা গাইডলাইন তৈরি করবে, যা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

Advertisement

এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, নির্বাচন কমিশন চাইলে আজ রাতেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য, বিশেষত ডিজিটাল সিগনেচার আপলোড করার জন্য পোর্টালটি আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা রাখা হবে।

Advertisement

আদালত আরও জানায়, ট্রাইব্যুনালগুলি বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ নথি খতিয়ে দেখে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এক ও অভিন্ন হতে হবে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে, যাতে আপিল নিষ্পত্তির কাজ তাড়াতাড়ি হয়।

এছাড়া, অফলাইনে জমা পড়া আপিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দপ্তর থেকে রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টায়।

সোমবার আদালত  নির্বাচন কমিশনকে শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেনের করা আপিলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিনিকেতনে থাকেন এবং বহু বছর ধরে তিনি নিয়মিত ভোট দেন। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় তাঁর এবং  তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং পরিচারকের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ ছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর তাঁদের নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এই ঘটনা জেরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে সরব হয় এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, নন্দলাল বসু ভারতের সংবিধানের অলঙ্করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় স্বাভাবিক ভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

Advertisement