• facebook
  • twitter
Wednesday, 29 April, 2026

হরমুজ প্রণালীতে আটকে ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক, ৩৭টি জাহাজ

বাড়ছে জ্বালানি সংকট

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এর ফলে ওই অঞ্চলে আটকে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক ও নৌকর্মী। পাশাপাশি থমকে রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী অন্তত ৩৭টি জাহাজ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং জাহাজগুলির চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই দল পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আটকে রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী ওই জাহাজগুলি। সেগুলিতে কর্মরত রয়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় নাবিক। অধিকাংশ জাহাজই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোপণ্য আনতে গিয়েছিল।

Advertisement

যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজগুলির চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে সমুদ্রেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে নাবিকদের। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও সরকারিভাবে এখনও সেই তথ্য বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক পথগুলির অন্যতম এই হরমুজ প্রণালী। যদিও ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি করে না, তবুও দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বিদেশ থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বিশেষ করে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত-সহ একাধিক উপসাগরীয় দেশ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতে আসে।

তবে শুধু তেল নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি হয় এই জলপথ দিয়ে। ফলে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

শুধু আমদানিই নয়, এই জলপথ দিয়েই ভারত বিপুল পরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে। সার-সহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য নিয়মিত এই পথেই উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাঠানো হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে সেই সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে। অর্থনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি আমেরিকা-র সঙ্গে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে।

যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাহত হয়, তবে বিকল্প হিসেবে আমেরিকার উপর নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, ভারতের জ্বালানি, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির উপরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তার উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সমীকরণ।

Advertisement