• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

তথ্য দিতে হবে, স্মার্টফোন সংস্থাগুলিকে শর্ত কেন্দ্রের

নতুন স্মার্টফোনে আগে থেকেই সরকারি ওই অ্যাপ ইনস্টল থাকার নির্দেশ দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে আপত্তি ওঠে।

প্রতীকী চিত্র

দেশে ক্রমবর্ধমান অনলাইন প্রতারণা ও ডেটা চুরির ঘটনা ঠেকাতে স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলির উপর নতুন একগুচ্ছ শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। মোবাইলের সোর্স কোড সরকারকে জানানো থেকে শুরু করে সফ্‌টওয়্যারে কাঠামোগত পরিবর্তন— একাধিক বিষয়ে স্মার্টফোন সংস্থাগুলিকে ছাড় দিতে হতে পারে বলে খবর। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, এই প্রস্তাব ঘিরে অ্যাপ্‌ল, স্যামসাংয়ের মতো প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির অন্দরে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যদিও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেনি।

সংবাদ সংস্থার খবর, সম্প্রতি বিভিন্ন স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থার কাছে কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব রাখা হয়েছে— মোবাইলের সোর্স কোড বিশ্লেষণের জন্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। সোর্স কোডই আসলে ঠিক করে দেয় কোনও স্মার্টফোন বা অ্যাপ কী ভাবে কাজ করবে। সূত্রের দাবি, এই কোডগুলি ভারতের নির্দিষ্ট গবেষণাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হতে পারে। সরকারের যুক্তি, জাতীয় স্তরে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি।

Advertisement

শুধু সোর্স কোড নয়, সফ্‌টওয়্যারের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। জানা যাচ্ছে, মোবাইলে আগে থেকে ইনস্টল থাকা অ্যাপ— তা সে সংস্থার নিজস্ব হোক বা তৃতীয় পক্ষের— ব্যবহারকারীরা যেন সহজেই আনইনস্টল করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা কোনও অ্যাপ যাতে ব্যবহারকারীর অজান্তে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে না পারে, সেই নিয়ন্ত্রণও সফ্‌টওয়্যারের মধ্যেই রাখতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, স্মার্টফোনের সমস্ত ডিজিটাল কার্যকলাপের লগ অন্তত ১২ মাস পর্যন্ত ডিভাইসেই সংরক্ষণ করতে হবে।

Advertisement

এই প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, গত মাসেই ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকা ঘিরে প্রবল বিতর্কে পড়েছিল কেন্দ্র। নতুন স্মার্টফোনে আগে থেকেই সরকারি ওই অ্যাপ ইনস্টল থাকার নির্দেশ দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে আপত্তি ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মুখে পিছু হটে সরকার। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও কঠোর শর্তের প্রস্তাব সামনে এল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগও দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নতুন প্রস্তাবগুলিকে সাইবার সুরক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ রয়টার্সকে বলেন, “স্মার্টফোন সংস্থাগুলির যদি কোনও যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগ থাকে, তা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা হবে। এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি।”

মন্ত্রকের এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে এখনও স্মার্টফোন সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। ফলে এই মুহূর্তে সরকারি অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। রয়টার্স অ্যাপ্‌ল, স্যামসাং, গুগ্‌ল, শাওমি-সহ একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভারতে মোবাইল সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনফরমেশন টেকনোলজি’-র তরফেও প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি।

তবে শিল্পমহলের অস্বস্তি স্পষ্ট। স্মার্টফোন সংস্থাগুলি বরাবরই সোর্স কোডকে তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গোপন সম্পদ বলে মনে করে। অতীতে চিন কিংবা মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও অ্যাপ্‌লের সোর্স কোড চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। মোবাইল সংস্থাগুলির যুক্তি, সোর্স কোড হস্তান্তর করলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও এমন বাধ্যতামূলক শর্ত নেই বলে তারা উল্লেখ করছে।

সূত্রের খবর, ভারতে মোবাইল সংস্থাগুলির সংগঠন ইতিমধ্যেই এই শর্তগুলি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের দাবি, ১২ মাসের লগ সংরক্ষণের মতো বিপুল ডেটার জন্য সব ডিভাইসে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। আবার প্রতিটি সফ্‌টওয়্যার আপডেটের জন্য সরকারি অনুমোদন চাওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। এখন দেখার, সাইবার সুরক্ষা ও শিল্পস্বার্থের টানাপড়েনে শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে কেন্দ্র।

Advertisement