ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে চলেছে। সেই লক্ষ্যে বিশেষ সাফল্য পেলেন গবেষকরা। ওড়িশার সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানে সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ১৪৮ প্রজাতির লাইকেনের সন্ধান মিলেছে, যাদের মধ্যে একাধিক প্রজাতির ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওড়িশায় একসঙ্গে এত সংখ্যক লাইকেন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম বলেই জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ময়ূরভঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ অরণ্য অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান বহুদিন ধরেই জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি বন দপ্তরের সহযোগিতায় বিজ্ঞানীরা কয়েক দফা সমীক্ষা চালান। শাল, পিয়াসাল ও অন্যান্য প্রাচীন বৃক্ষের গায়ে, পাথরের গায়ে এবং আর্দ্র ছায়াঘেরা অঞ্চলে এই লাইকেনের প্রজাতিগুলি চিহ্নিত হয়।
Advertisement
গবেষকদের দাবি, লাইকেনের কিছু নির্যাসে এমন জৈব যৌগ রয়েছে, যা কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে সহায়ক হতে পারে। প্রাথমিক পরীক্ষায় কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষের ওপর প্রতিরোধমূলক প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
Advertisement
বন দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘সিমলিপাল শুধু বাঘ বা হাতির জন্যই নয়, অণুজীব ও উদ্ভিদ জগতের অমূল্য সম্পদের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে, অরণ্য সংরক্ষণ কতটা জরুরি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইকেনের পরিবেশগত গুরুত্বও অপরিসীম। এগুলি বায়ুদূষণের সূচক হিসেবে কাজ করে এবং অরণ্যের স্বাস্থ্য বোঝাতে সহায়তা করে। ফলে এই বিপুল সংখ্যক প্রজাতির উপস্থিতি সিমলিপালের পরিবেশগত ভারসাম্যের ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে।
গবেষক দলের এক সদস্য জানান, ‘ওড়িশায় এর আগে এত বিপুল সংখ্যক লাইকেনের প্রজাতি একসঙ্গে চিহ্নিত হয়নি। এটি রাজ্যের জীববৈচিত্র্য মানচিত্রে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।’
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ওষুধ শিল্প ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করেছেন, নিয়ন্ত্রিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণা চালানো এবং অরণ্যের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
Advertisement



