পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের অপব্যবহার এবং ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া রুখতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক আর সাধারণ খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি কিনতে পারবেন না। তাদের নিজস্ব বা নির্দিষ্ট ‘ক্যাপটিভ’ (Captive) পাম্পের মাধ্যমেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল ভর্তুকিযুক্ত বা বিশেষ মূল্যে সরবরাহ করা জ্বালানির অপব্যবহার রোধ করা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে কিছু বাণিজ্যিক সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠান খুচরো পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করে তা অন্য কাজে ব্যবহার করছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
নতুন নির্দেশ অনুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক সংস্থার নিজস্ব জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেল সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণ খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এই ধরনের বৃহৎ পরিমাণ ক্রয় নিরুৎসাহিত করা হবে। সরকারের মতে, এর ফলে জ্বালানির প্রকৃত ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে এবং অবৈধ মজুত বা পাচারের সম্ভাবনাও কমবে।
এই বিধিনিষেধ আপাতত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার চাইলে এই সময়সীমা পরিবর্তন, সংশোধন বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানির চাহিদা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে এবং জ্বালানি বণ্টন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। অন্যদিকে, কিছু শিল্প মহলের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের কারণে জ্বালানি সংগ্রহে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের দাবি, সাধারণ গ্রাহকদের উপর এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না এবং খুচরো পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অপব্যবহার রোধে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। আন্তর্জাতিক বাজারে যেহেতু তেলের দাম ক্রমবর্ধমান হয়েই চলেছে তাই কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।




