• facebook
  • twitter
Monday, 16 March, 2026

বিহার বিধানসভায় রাজ্যসভার ভোট, শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রাজনীতি

ভোট শুরুর আগে বিরোধী শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। কারণ কংগ্রেসের দুই বিধায়কের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে খবর ছড়ায়।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিহার থেকে রাজ্যসভার পাঁচটি আসনের জন্য বিধানসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বিধানসভা চত্বরে শাসক জোট এবং বিরোধী শিবিরের বিধায়করা এসে ভোট দেন। বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং তারপরই গণনা শুরু হওয়ার কথা। ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, মোট পাঁচটি আসনের জন্য এবার ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। জয়ী হতে হলে কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৪১টি প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হবে। যদি সেই সংখ্যা না মেলে, তবে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা করে ফল নির্ধারণ করা হবে।

এদিন বিরোধী দলের নেতা তেজস্বী যাদব ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং শাসক জোটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী জোট ছেড়ে শাসক শিবিরে যাওয়ার পর থেকেই নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে জনতা দল ইউনাইটেডকে দুর্বল করার চেষ্টা চলতে পারে।

Advertisement

অন্যদিকে শাসক জোটের পক্ষ থেকে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেছে। উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বিধানসভায় এসে জয়ের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, রাজ্যসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের স্তরে বিহারের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করবেন।

Advertisement

উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহাও একইভাবে শাসক জোটের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জাতীয় স্তরে বিহারের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

এই নির্বাচনে শাসক জোট পাঁচজন প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী মহাগঠবন্ধন একটি প্রার্থীকে সমর্থন করেছে। ফলে ভোটের অঙ্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভোট শুরুর আগে বিরোধী শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। কারণ কংগ্রেসের দুই বিধায়কের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে খবর ছড়ায়। তবে পরে বিরোধী নেতারা জানান, সব বিধায়কই উপস্থিত থাকবেন এবং জোট পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই করছে।

বিধানসভায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন স্পিকার প্রেম কুমার গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। বিকেলে গণনা শুরু হওয়ার পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার লড়াইয়ের এই নির্বাচন বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে।

Advertisement