উত্তরাখণ্ডের পর দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে গুজরাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি বিলে সম্মতি দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির সম্মতির কথা জানিয়ে সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিধি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বিধি কার্যকরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
গুজরাত বিধানসভায় গত ২৪ মার্চ ইউসিসি বিলটি পাশ হয়েছিল। এই আইনে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন আইনি কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না।
বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মহিলার ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিয়ে হলে তা সরকারিভাবে নথিভুক্ত করানো বাধ্যতামূলক। গুজরাতে সম্পন্ন হওয়া বা রাজ্যের কোনও বাসিন্দার সঙ্গে হওয়া বিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথিভুক্ত করতে হবে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের ঘোষণা ও সরকারি নথিভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও রয়েছে।
তালাকের ক্ষেত্রেও নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক হবে। ব্যভিচার, নিষ্ঠুরতা, অন্তত দু’বছর স্বামী-স্ত্রী আলাদ থাকা, ধর্মান্তর এবং ৭ বছর ধরে নিখোঁজ থাকার মতো বিষয় বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হতে পারে। উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির ক্ষেত্রেও অভিন্ন নিয়ম চালুর কথা বলা হয়েছে। ছেলে-মেয়ের সমান অধিকারের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি কারণ ও প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। তবে তফসিলি উপজাতি এবং সংবিধান বা আইনে সুরক্ষিত কিছু প্রথাগত গোষ্ঠী এই বিধির আওতার বাইরে থাকবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেও আইনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। রাজ্য সরকার কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করার পর তা চালু হবে। তার আগে সব জেলায় আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো এবং নিয়মকানুন তৈরি করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড ২০২৫ সালে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছে। আসামও একই ধরনের একটি বিল পাশ করেছে এবং সেটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।




