রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জেরে ইউক্রেনের যে সঙ্কট চলছে তা মেটাতে ভারত এবং চিনের ভূমিকার প্রশংসা করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর মতে এখনও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ চলার জন্য দু’টি কারণ দায়ী। সোমবার চিনের তিয়ানজিন শহরে এসসিও বৈঠকে নিজের বক্তব্য রাখার পরে মোদীর সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকের জন্য রওনা দেন পুতিন। সেই সময় একই গাড়িতে যাহযাত্রী হয়ে বৈঠক করতে যান ভারত ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতীয় সময় বেলা ১২টার কিছু পরে মোদী এবং পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে।
এসসিও সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন নিজের বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইউক্রেন সঙ্কট মেটাতে চিন এবং ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করছি আমরা।’ কিছু দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম পরামর্শদাতা পিটার নাভারো ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘মোদীর যুদ্ধ’ বলে তকমা দিয়েছিলেন। নাভারো মন্তব্য করেছিলেন, ‘ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে বলেই ওই টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঢালতে পারছে মস্কো।’ সোমবার অবশ্য পুতিন আমেরিকার দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো আর পশ্চিমি দুনিয়া হস্তক্ষেপ করার জন্যই এই যুদ্ধ শুরু হয়।
Advertisement
পাশাপাশি একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন পুতিন। এই প্রসঙ্গে ১৫ আগস্টের আলাস্কা বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এটাও বলতে চাই যে সম্প্রতি আলাস্কায় রাশিয়া এবং আমেরিকার বৈঠকে একটা বোঝাপড়া হয়েছে। আমার মনে হয়, তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণে কাজ করবে।’
Advertisement
তবে সেই বোঝাপড়া এবং লক্ষ্য আসলে কী তা এ দিনও স্পষ্ট করেননি পুতিন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে আলাস্কা বৈঠকের কথা বলে আদতে পুতিন ভারসাম্যের বার্তা দিয়েছেন। এক দিকে পুতিন যেমন আমেরিকার দাবি উড়িয়ে ইউক্রেন সঙ্কট মেটাতে দিল্লির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, তেমনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তিপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুরু থেকেই ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করে আসা পুতিনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



