• facebook
  • twitter
Tuesday, 10 February, 2026

পীরাগঢ়ী উড়ালপুলে গাড়ির ভিতরে তিন দেহ, সিসিটিভি ফুটেজে ‘বাবা’কে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত

পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির ভিতর থেকে মদের বোতল ও গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ার কারণে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

একটি গাড়ির ভিতর থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার। দিল্লির পীরাগঢ়ী উড়ালপুলের এই ঘটনায় রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে সাধু বেশে এক ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে। ওই ব্যক্তিকে গাড়ির ভিতরেই দেখা গিয়েছে। তাঁর চলে যাওয়ার পরেই গাড়ির ভিতর থেকে তিন জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে এই রহস্যময় ‘বাবা’কে নিয়ে অপরাধের মূল সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ৩টে ৫০ মিনিট নাগাদ পীরাগঢ়ী উড়ালপুলে একটি গাড়ি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেই খবর আসে থানায়। জানানো হয়, গাড়ির ভিতরে তিন জন থাকলেও তাঁরা কোনও সাড়াশব্দ দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে দেখে ভিতরে থাকা তিন জনই মৃত। পুলিশ জানায়, গাড়ির দরজা ভিতর থেকে লক করা ছিল। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে ব্যস্ত উড়ালপুলের উপর গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকলেও বিষয়টি আগে কারও নজরে না আসায় পুলিশও বিস্মিত।

Advertisement

তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, গাড়িতে শুরুতে তিন জন নয়, চারজন ছিলেন। চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন ‘বাবা’র বেশে। তাঁর পোশাক ও চলাফেরা দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। তিন জনের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা। তাঁদের নাম রণধীর (৭৬), শিবনরেশ (৪৭) এবং লক্ষ্মী দেবী (৪০)। রণধীর ও শিবনরেশ বাপরোলা এলাকার বাসিন্দা। লক্ষ্মী দেবী জহাঙ্গীরপুরীর বাসিন্দা। রণধীর গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন। পিছনের আসনে ছিলেন শিবনরেশ ও লক্ষ্মী।

পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির ভিতর থেকে মদের বোতল ও গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ার কারণে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবনরেশ ও লক্ষ্মী দেবীর বমির চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন গাড়ির সামনের আসনে রণধীরের পাশেই বসেছিলেন ‘বাবা’র বেশে থাকা ওই ব্যক্তি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রণধীর ও শিবনরেশ একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং জমি-বাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁদের পরিবারের কেউই লক্ষ্মী দেবীর সঙ্গে এই দুই জনের সম্পর্কের কথা জানতেন না। তদন্তে উঠে এসেছে, লক্ষ্মীর দু’টি বিয়ে হয়েছিল। এক স্বামী বিহারে থাকেন, অন্যজন দিল্লিতে। লক্ষ্মীর সঙ্গে রণধীর ও শিবনরেশের সম্পর্ক ঠিক কী ধরনের ছিল, তা নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং রহস্যময় ‘বাবা’র ভূমিকা ঠিক কী, তা জানতেই তদন্ত আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।

Advertisement