• facebook
  • twitter
Wednesday, 20 May, 2026

একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ নয়, বাধ্যতামূলক ৩০ মিনিটের বিরতি—শ্রমিক সুরক্ষায় কেন্দ্রের নতুন নির্দেশ

বিশেষ করে কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র, বেসরকারি অফিস এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে এই বিরামহীন কাজ চলতে থাকে

দেশের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনও কর্মীকে একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রামের জন্য বিরতি দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় একটানা কাজের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়া এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে একটানা কাজ করে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র, বেসরকারি অফিস এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে এই বিরামহীন কাজ চলতে থাকে। এর ফলে কাজের গুণমানের পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শ্রমমন্ত্রকের নতুন নির্দেশে সেই নেতিবাচক প্রবণতা রুখতেই এই কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

Advertisement

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মদিবসের মধ্যে কাজের সময় এমনভাবে ভাগ করতে হবে যাতে কোনও সেশনে একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি না হয়। প্রতিটি সেশনের পর অন্তত ৩০ মিনিটের বিশ্রাম বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিফট ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রক।

Advertisement

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শ্রমিক কল্যাণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ শুধুমাত্র ক্লান্তিই বাড়ায় না, বরং ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, পরিবহন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে এই নিয়ম কার্যকর হলে কর্মীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

তবে শিল্পমহলের একাংশ মনে করছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। শিফট পুনর্গঠন, অতিরিক্ত জনবল এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক জানিয়েছে, শ্রমিকদের কল্যাণই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই নতুন নির্দেশ কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement