• facebook
  • twitter
Sunday, 24 May, 2026

নিট মামলায় অভিযুক্ত শুভম খৈরনাকে ৬ জুন পর্যন্ত হেফাজতের নির্দেশ

দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত এই নির্দেশ দেয়

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় অভিযুক্ত শুভম খৈরনাকে ৬ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এদিকে প্রশ্নপত্রফাঁসের পিছনে থাকা বৃহত্তর সংগঠিত চক্রের সন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই খৈরনাকে আদালতে হাজির করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের মাধ্যমে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেয়।

Advertisement

এদিন সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, তদন্ত শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস সন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা খতিয়ে দেখছে কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরীক্ষার্থীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুভম খৈরনার এনটিএ-র ভিতরে একটি সূত্র মারফত প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে। পরে তা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন। সিবিআই আগে তাঁর আরও দীর্ঘ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছিল। ইলেকট্রনিক প্রমাণের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়। তদন্তের স্বার্থে মহারাষ্ট্রেও যান সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের সূত্র যাচাই করা হ্চ্ছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।

গত কয়েকদিন এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। এর আগে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে অভিযুক্ত মজ্ঞিলালা বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল, যশ যাদব এবং ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, মঙ্গিলালা বিওয়াল বিকাশ বিওয়ালের হয়ে প্রশ্নপত্র জোগাড় করতে শুভম খৈরনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তদন্তে মঙ্গিলালেল মোবাইল ফোন থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, যশ যাদব ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মঙ্গিলাল বিওয়ালের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিকাশ বিওয়াল জানান, কোচিং ক্লাস চলাকালীন তাঁর সঙ্গে যশ যাদবের পরিচয় হয়েছিল।

সিবিআইয়ের দাবি, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি প্রথমে শুভম খৈরনারের কাছ থেকে যশ যাদবের হাতে যায় এবং পরে তা চক্রের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিপুল অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছেও সেই প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।

মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি সিবিআই আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মণীষা ওয়াগমারে, রসায়ন বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ বিঠলরাও কুলকর্নি এবং শিক্ষ মণীশ মানধারে।  সিবিআই ডিজিটাল প্রমাণ, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে  প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পরিধি ও কার্যপদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করছে।

 

 

 

Advertisement