• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

মনের জোর আর হনুমান চালিশা পড়েছিলেন মচ্ছর, ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলা থেকে কী ভাবে বাঁচলেন মোদীকে জানালেন স্মিত

গুরুতর আহত অবস্থাতেও কীভাবে ককপিটের দরজার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং কীভাবে সহ পাইলটকে বাধা দিয়েছিলেন, তা জানান প্রধানমন্ত্রীকে

মনের জোর আর হনুমান চালিশা পড়েছিলেন মচ্ছর, ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলা থেকে কী ভাবে বাঁচলেন মোদীকে জানালেন  স্মিত

Image: SNS

ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে আচমকাই হামলা করা হয় স্মিত মচ্ছরের (Smit Machchhar) উপর। সেই সময় বিমানও দ্রুত গতিতে নিচে নেমে আসতে থাকে। সেই সময় স্মিত (Smit Machchhar) বুঝতে পারেন, তাঁর হাতে একটি সুযোগই রয়েছে, তাহল ককপিটের দরজা খুলে দেওয়া।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে ভিডিও কলে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন আহত ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন (Smit Machchhar)। গুরুতর আহত অবস্থাতেও কীভাবে ককপিটের দরজার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং কীভাবে সহ পাইলটকে বাধা দিয়েছিলেন, তা জানান প্রধানমন্ত্রীকে। ওই বিমানে ১৭৪ জন ছিলেন। পরে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে বিমানকে অবতরণ করা হয়।

মচ্ছর (Smit Machchhar) প্রধানমন্ত্রীকে (Narendra Modi) বলেন, ‘আমি যখন মেঝেতে পড়েছিলাম, তখন বুঝতে পারি বিমানটি নিচে নেমে যাচ্ছে। তখন মনে হয়েছিল, স্মিত এটাই শেষ চেষ্টা। শুধু একবার জোর করে এগিয়ে যাও। দরজাটা তো সামনেই।‘

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা পাইলট স্মিত মচ্ছরের, মোদীকে কী বললেন ‘নায়ক’?

‘ওদের সবাইকে মরতে দিতে পারতাম না’

নিজের জীবন নিয়ে লড়াই চালানোর পাশাপাশি যাত্রীদের কী হতে পারে তাও বুঝতে পারছিলেন মচ্ছর (Smit Machchhar)। তিনি বলেন, ‘সচেতনভাবে আমি সবাইকে বলেছিলাম, আমি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্যই লড়ছি।‘

জরুরি পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)। তিনি বলেন, ‘আপনার সাহস, ধৈর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধি—সবকিছুই প্রশংসনীয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন।‘

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ গোটা দেশ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, আমরা ভারতীয়রা মানুষের জীবন নিই না, আমরা মানুষের জীবন বাঁচাই।‘

‘আপনিই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা’

প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে কথোপকথনের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মচ্ছর (Smit Machchhar)। মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, তা কখনও ভাবেননি বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা’ বলে উল্লেখ করেন মচ্ছর। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি যে এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে কথা বলব।‘

জবাবে মোদী  (Narendra Modi) বলেন, ‘আমার সামনে আবেগপ্রবণ না হলে আর কার সামনে হবেন?’ আহত ক্যাপ্টেনকে সাহায্যের প্রয়োজন হলে যে কোনও সময় যোগাযোগ করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী (Narendra Modi) বলেন, ‘স্মিত, যখনই আপনার আমাকে প্রয়োজন হবে, আমায় ফোন করে নেবেন। শুধু একটি ফোনেরই  দূরত্ব।’  তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আপনার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে এবং আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য সবাই খুবই উৎসুক।‘

আরও পড়ুন: ‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে

ককপিটে আহত অবস্থায় হনুমান চালিশা পড়েছিলেন মচ্ছর

ককপিটে আহত অবস্থায় কী ভাবে নিজেকে শান্ত রেখেছিলেন, সেই কথাও প্রধানমন্ত্রীকে (Narendra Modi) জানান মচ্ছর (Smit Machchhar)। তিনি বলেন, ‘আমি যখনই ভয় পাই, তখন আমার মাথায় একটাই বিষয় আসে—আমি হনুমান চালিশা পাঠ করি। সেই পরিস্থিতিতেও আমি একটানা হনুমান চালিশা পাঠ করছিলাম। আমি জানি, ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল।‘

মচ্ছর জানান, তাঁর দুই বছরের ছেলের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন। দেশের বাইরে থাকলেও পরিবারের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে মচ্ছরের মা গীতাবেনের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)। ছেলেকে যে মূল্যবোধে  বড় করেছেন, সেই প্রসঙ্গও তোলেন তিনি (Narendra Modi)।

‘আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠব, আত্মবিশ্বাসী’

হামলার পর এখনও চিকিৎসাধীন মচ্ছর (Smit Machchhar)। তিনি জানান, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে বলে। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

মচ্ছর (Smit Machchhar) বলেন, ‘আমি এটাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলার একটি যাত্রা হিসাবেই দেখছি। সময় লাগবে। কিন্তু আমি খুব, খুব আত্মবিশ্বাসী যে আমি সুস্থ হয়ে উঠব। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠব।‘ প্রধানমন্ত্রী  (Narendra Modi) তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং জানান, গোটা দেশের মানুষ তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

দেখুন: