দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেখানে দেখা গেল না কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লায় এই নিয়ে ত্রয়োদশবার ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন। কিন্তু শনিবার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি রাহুল গান্ধী। ছিলেন না মল্লিকার্জুন খাড়গেও। তাঁদের এই অনুপস্থিতি এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার।
এদিকে কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে রাহুল ও খাড়গের এমন আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আগেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গেই ছিল তাঁর বসার আসন। কিন্তু শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে এলেন না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অনুপস্থিত থাকলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। এই নিয়ে পরপর দু’বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেলেন রাহুল।
অন্যদিকে এদিন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। লালকেল্লায় হাজির ছিলেন পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী ১৯ জন পড়ুয়াও। এই অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের সমতুল্য। তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরেই রাহুল গান্ধীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গের জন্য এদিনের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। কংগ্রেস সূত্রে খবর, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ খাড়গের জন্য অনুষ্ঠানস্থলে হেঁটে যাওয়া অসুবিধার ছিল। তার পরিবর্তে তিনি কংগ্রেস সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
তাছাড়া ২০২৪ সালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শেষের দিকে দ্বিতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস। সাধারণত সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতার আসন সামনের সারিতে থাকে। তাই রাহুলের বসার জায়গা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কংগ্রেস। এমনকী বিষয়টা ‘অপমানজনক’ আখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। যদিও কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, অলিম্পিয়ানদের বসানোর ব্যবস্থা করতেই আসন বিন্যাসে কিছুটা বদল আনা হয়েছিল। তবে সেবারও রাহুল যাননি। এবারও এলেন না দেশের বিরোধী দলনেতা। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা আরপি সিং সংবাদমাধ্যমে খাড়গের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সভাপতি নিয়মিতভাবে সংসদের ‘মকর দ্বার’-এর সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন। অথচ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন। ২০২৫ সালেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছিলেন।’




