• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 4 October, 2026

আরও চাপ বাড়ল জ্ঞানেশ কুমারের, ২০ বছরের পুরনো মামলার ফাইল খুলছে কেরলম সরকার

তাছাড়া এখন যখন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা, তখন ২০ বছরের পুরনো

আরও চাপ বাড়ল জ্ঞানেশ কুমারের, ২০ বছরের পুরনো মামলার ফাইল খুলছে কেরলম সরকার

CEC Gyanesh Kumar Photo-SNS

দেশজুড়ে ইস্তফার দাবি উঠেছে। নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে বলে দাবি উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। আর তার মধ্যেই আরও অস্বস্তি বাড়ল জ্ঞানেশ কুমারের। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা, পথে নেমেছে ছাত্র-যুবসমাজও। রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির। তার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক পুরনো একটি মামলায় আবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরলমের কংগ্রেস সরকার। সুতরাং নতুন করে চাপের মুখে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ২০০৬ সালের পুরনো ঘটনার নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল কেরলমের কংগ্রেস সরকার। আর তাতেই চাপ বাড়ল জ্ঞানেশ কুমারের বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০৬ সালে কেরলমের পূর্তসচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এবার আবার সেই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরলম সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা রাজ্য দুর্নীতি দমন দপ্তরকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা জানান, নতুন করে দু’দশক আগের ওই দুর্নীতি মামলা এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আত্মহত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ভিজিলেন্স কমিশন তৈরি করা হয়েছে। রমেশ চেন্নিথালা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার তদন্ত করা সরকারের কাজ। সেটা যত পুরনো ঘটনাই হোক। এটার মধ্যে প্রতিহিংসার কিছু নেই।’

এখন যে পর্বের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, তৎকালীন সময়ে কেরলমের ক্ষমতায় ছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার। এই ঘটনার সূত্রপাত ২০০৬ সালে। কেরলম রাজ্য পরিবহণ প্রকল্পের আওতায় তিরুবনন্তপুরম থেকে অঙ্গমালি পর্যন্ত প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পে যুক্ত হয় ভারত-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগের একটি সংস্থা। ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মালয়েশীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার লিসি বিন। হঠাৎ ওই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন লিসি বিন আত্মহত্যা করেন। তাঁর রেখে যাওয়া একটি চিরকুটে তৎকালীন কেরলমের পূর্ত দপ্তরের সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ ছিল। ওই চিরকুট এবং প্রকল্পে কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।

তাছাড়া এখন যখন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা, তখন ২০ বছরের পুরনো ঘটনা খুঁচিয়ে তুলল কেরলমের কংগ্রেস সরকার। এই তদন্তে যদি প্রত্যক্ষ জ্ঞানেশ কুমারের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে জেল পর্যন্ত হতে পারে। এই ঘটনা যখন ঘটেছিল তখন পূর্ত দপ্তরের কয়েকজন অফিসার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ ছিল, বড় মাথাকে বাঁচাতে তাঁদের বলির পাঁঠা করা হয়েছে। ঠিকাদারদের সরকারি কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমার অনিয়ম করেছিলেন।