• facebook
  • twitter
Saturday, 28 March, 2026

খামেনি প্রসঙ্গে উত্তাল কাশ্মীর বিধানসভা

পোস্টার হাতে বিক্ষোভে উঠল আমেরিকা বিরোধী স্লোগান

শুক্রবার তুমুল বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনায় উত্তাল জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা। শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষের বিধায়কদের বিক্ষোভে অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্পিকার আব্দুল রহিম রাথ শেষ পর্যন্ত সভা মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রভাব যে স্থানীয় রাজনীতিতেও কতটা গভীরভাবে পড়ে, এই ঘটনাই তার বড় উদাহরণ।

এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিবাদ। শাসক দল জম্মু এবং কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স-সহ (জেকেএনসি) কংগ্রেস, সিপিআই (এম) এবং পিডিপির বিধায়কেরা ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অনেকের হাতে খামেনির ছবি ছিল, কেউ কেউ আবার কালো ফিতে পরে বিধানসভায় আসেন। তাঁরা ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন।

Advertisement

অন্যদিকে, বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র বিধায়কেরাও এই সময় চুপ করে থাকেননি। তাঁরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে জম্মুতে একটি জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার দাবি তোলেন। ফলে দুই পক্ষের স্লোগান ও বিক্ষোভে পুরো বিধানসভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্পিকার বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ করলেও কোনও পক্ষই তা মানেনি। বিধায়কেরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন, ফলে প্রশ্নোত্তর পর্বও ঠিকমতো চলতে পারেনি।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ জম্মুতে ফের শুরু হয়েছিল বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। এর আগে ২ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্ব হয়েছিল। পাঁচ সপ্তাহের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হতেই এমন অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই বিষয়ে জেকেএনসি নেতা তানভির সাদিক বলেন, তাঁদের দল ইরানের পাশে রয়েছে এবং কোনও দেশ অন্য দেশে হামলা করতে পারে না। তিনি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ইরানে হামলার নিন্দা করার আহ্বানও জানান।

অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু বিধানসভাতেই নয়, রাজ্যের বাইরেও দেখা যাচ্ছে। মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে শ্রীনগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। সেখানে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল পোড়ানো হয়। এমনকি কিছু মানুষ ইরানকে সাহায্য করতে টাকা ও সোনাও সংগ্রহ করছেন।

Advertisement