জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামে ওঠা স্লোগান বিতর্কের মধ্যেই কড়া অবস্থান নিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিত। তিনি স্পষ্ট জানালেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনওভাবেই দেশবিরোধী নয়। বরং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের সবচেয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।’
সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে কিছু স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিরোধী শিবিরের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক স্লোগান ওঠা মানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মানেই মতপ্রকাশের জায়গা। তবে এর মানে এই নয় যে, এখানে দেশবিরোধী মানসিকতা লালিত হয়।’
Advertisement
শান্তিশ্রী পণ্ডিতের দাবি, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, গবেষণা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সামগ্রিকভাবে দেশ গঠনের কাজেই যুক্ত। তাঁর কথায়, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রশাসন, কূটনীতি, বিজ্ঞান, গবেষণা ও সমাজসেবায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা স্লোগানকে সামনে রেখে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র নির্ধারণ করা ঠিক নয়। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সবসময় সতর্ক রয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখেই পড়াশোনা ও গবেষণার পথ চলবে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে।’
এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক শিবির উপাচার্যের বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও বিরোধীদের একাংশ এখনও প্রশ্ন তুলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগানের সীমা কোথায় হওয়া উচিত। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, জাতীয়তাবাদ ও শিক্ষার প্রশ্নে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কোনও আপস করবে না।
Advertisement



