• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

পুঞ্চে কোণঠাসা জইশ জঙ্গিরা, শহিদ ১ জওয়ান

পুঞ্চে সেনা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর অস্ত্র। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে পুঞ্চ সেক্টরে প্রচুর অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছে।

পুঞ্চে কোণঠাসা জইশ জঙ্গিরা, শহিদ ১ জওয়ান

Photo: File Photo

আবার জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে গুলির লড়াই শুরু হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জইশ-এ-মহম্মদের (জেইএম) এর জঙ্গিদের মধ্যে। জইশ জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে অভিযান চালানো হয়। ডোডা-উধমপুর সীমান্তে জঙ্গলে ঘেরা এলাকায় সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে একজন সেনা জওয়ান শহীদ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, উধমপুরের ডোডা বসন্তগড়ে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেনার স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং পুলিশের যৌথ বাহিনী এরপর অভিযানে নামে। নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে গোপনে জইশ জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পৌঁছাতেই যৌথবাহিনী জঙ্গল ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছিল। সেইসময় আচমকা গুলি চালায় জঙ্গিরা। পালটা আক্রমণ করে যৌথবাহিনী। জানা গিয়েছে চারজন জইশ জঙ্গিকে কোণঠাসা করে ফেলেছে সেনাবাহিনী। গুলির লড়াই এখনও চলছে উভয়পক্ষের মধ্যে।

স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে এটিই জম্মু ও কাশ্মীরে চলা সবথেকে বড় অভিযান। এর আগে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে চালানো হয়েছিল কুলগাম অভিযান। ওই অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইতে শহিদ হন ২ জন জওয়ান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সেনা আধিকারিক। ওই লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে প্রাণ হারান দুই জঙ্গি।

অন্যদিকে, পুঞ্চে সেনা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর অস্ত্র। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে পুঞ্চ সেক্টরে প্রচুর অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর গ্রেনেড, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, কার্তুজ, ম্যাগাজিন ইত্যাদি উদ্ধার করেছে। তারা সন্দেহ করছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরে নাশকতার উদ্দেশ্য নিয়েই এত অস্ত্র মজুত করা হয়েছে। কিন্তু নাশকতার পরিকল্পনা সার্থক হওয়ার আগেই উদ্ধার করা হল অস্ত্র। কারা এত অস্ত্র মজুত করেছিল সেই ব্যাপারে তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। শ্রীনগর, কুপওয়ারা, অনন্তনাগ, বারামুলা, হান্দোয়ারা, শোপিয়ান এবং পুলওয়ামায় এখনও চলছে তল্লাশি। গত মাসে উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলায় দু’জন লশকর জঙ্গিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১০টি একে ৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড লঞ্চার, ব্যারেল গ্রেনেড ইত্যাদি। এরপর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে শুরু করা হয়েছে তল্লাশি অভিযান।

উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি আক্রমণের পর থেকে সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সবরকম সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে তৎপর হয়েছে। শুরু হয়েছে জঙ্গিদের ধরপাকড়। শ্রীনগরে ‘অপারেশন মহাদেব’-এ পহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত তিন জঙ্গিকেই হত্যা করে ভারতীয় সেনা। এই জঙ্গিরা তিন মাস ধরে লুকিয়ে ছিল। সম্প্রতি জঙ্গিদের কাছে টি৮২ আল্ট্রাসেট কমিউনিকেশন ডিভাইস থাকা বাধ্যতামূলক করেছিল জঙ্গি মুসা। সেই ডিভাইসের লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযান চালায় সেনা। তার জেরেই ধরা পড়ে তিন জঙ্গি। গত মাসেও জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ভেস্তে যায় সেই প্রচেষ্টা।