• facebook
  • twitter
Friday, 9 January, 2026

৬ বছরে সাইবার জালিয়াতিতে ক্ষতি প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা

রাজ্যভিত্তিক হিসাবে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে-- ৩,২০৩ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা।

মীনাক্ষী ভট্টাচার্য

দিল্লি, ৩ জানুয়ারি— ভারতে গত কয়েক বছরে সাইবার প্রতারণা এবং অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা মারাত্মক ভাবে বেড়েছে। ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ বছরে সাইবার অপরাধের কারণে দেশের নাগরিকদের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫২,৯৭৬ কোটিরও বেশি। ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন বিনিয়োগ ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকরাও নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালেই দেশে সাইবার ও অনলাইন প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯,৮১৩ কোটি। ওই বছর ২১ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে ক্ষতির অঙ্ক ছিল আরও বেশি— ২২,৮৪৯ কোটি টাকা। যদিও অভিযোগের সংখ্যা তুলনায় কিছুটা কম ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণার ধরন দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

Advertisement

রাজ্যভিত্তিক হিসাবে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে– ৩,২০৩ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা। এই পাঁচটি রাজ্যেই দেশের মোট সাইবার প্রতারণার অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে।

কোন ধরনের প্রতারণায় মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা দেখলে বোঝা যায় ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম করে মোট ক্ষতির প্রায় ৭৭ শতাংশ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর পরে রয়েছে ডিজিটাল গ্রেপ্তার, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, সেক্সটর্শন ও ই-কমার্স সংক্রান্ত প্রতারণা। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশ থেকে এই ধরনের অপরাধ পরিচালিত হচ্ছে বলে খবর।

সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়তে কেন্দ্রীয় সরকার সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল চালু করেছে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানানোর জন্য ১৯৩০ নম্বরে হেল্পলাইন চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক হতে হবে। অজানা লিঙ্কে ক্লিক না-করা, সন্দেহজনক বিনিয়োগে টাকা না-ঢালা এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাই সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায়।

Advertisement