বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি নিয়ে আস্থার ঘাটতি দূর করতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। তাঁর কথায়, ‘ভারতের প্রতি বিশ্বজুড়ে বিপুল আশাবাদ এবং আস্থা রয়েছে’, যা এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এআই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা এবং প্রশাসনের ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও অনেক সংশয় রয়েছে। সেই আস্থার ফাঁক বা ‘কনফিডেন্স গ্যাপ’ কমাতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
Advertisement
সুনকের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এই কারণে বিশ্ববাসীর মধ্যে ভারতের প্রতি একটি বিশেষ বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি যাতে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং কোনওভাবে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ভারত নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Advertisement
সুনক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনই কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং কর্মসংস্থানের উপর প্রভাব—এই সব বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, প্রযুক্তির স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ভারত ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পরিকাঠামো, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সুনক আরও বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি। তাঁর কথায়, ‘ভারতের প্রতি বিশ্বের যে আস্থা এবং আশাবাদ রয়েছে, তা এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব মঞ্চে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল অবস্থান ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Advertisement



