আজ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। সকাল আটটা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সকাল ন’টার মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফলের আভাস মিলতে পারে। গত ৯, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটে পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সর্বাধিক ভোট পড়েছে—প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্য রাজ্যগুলিতেও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পরেই রয়েছে পুদুচেরি (৮৯.৮৭%), আসাম (৮৫.৩৮%), তামিলনাড়ু (৮৪.৬৯%) এবং কেরল (৭৯.৬৩%)।
এক্সিট পোল অনুযায়ী, আসাম, কেরল ও পুদুচেরি নিয়ে প্রায় সব সংস্থার মত এক। আসামে বিজেপির পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যা হলে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ ক্ষমতা হারাবে। কেরলে বিধানসভার মোট আসন ১৪০টি। অন্যদিকে পুদুচেরিতে ফের এনআর কংগ্রেসের সরকার গঠনের আভাস রয়েছে। ওই ছোট রাজ্যটিতে বিধানসভার মোট আসন ৩০টি।
Advertisement
তবে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি। পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ এক্সিট পোল বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসকেও এগিয়ে দেখানো হয়েছে। তামিলনাড়ুতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোটকে বেশিরভাগ সমীক্ষায় এগিয়ে রাখা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এআইএডিএমকে জোটের জয়ের পূর্বাভাস রয়েছে। ওই রাজ্যে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়ার ম্যাজিক নম্বর হল ১১৭ আসনে জয়।
Advertisement
পাঁচটি সংস্থার মধ্যে চারটির বুথ ফেরত সমীক্ষায় এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে। একটি সংস্থা বলেছে ১৩৮ আসনের জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরবে এআইএডিএমকে জোট। ওই জোটের অন্যতম শরিক বিজেপি। অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাঘাম বা টিভিকে ১০৯টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া। ফলে সেখানে ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই নির্বাচনে বিশেষ করে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল নিয়ে জাতীয় স্তরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেরলে যদি এলডিএফ পরাজিত হয়, তবে বামপন্থীরা গোটা দেশে কার্যত ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র লড়াই, নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ এবং আদালতের হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন নজিরবিহীন হয়ে উঠেছে।
দু দফা মিলিয়ে বাংলায় চার লাখের বেশি আধা সেনা মোতায়েন হয়েছিল। এছাড়া অন্য রাজ্যের তুলনায় বাড়তি পর্যবেক্ষক নিয়োগ, বুথের বাইরে গোলমাল হলেও পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত এবং পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসন মিলিয়ে শতাধিক আধিকারিককে বদলির কঠোর পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।
Advertisement



