‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন সদনে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাতে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। ঘণ্টা দুই পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কং গ্রেসের অভিযোগ, আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে রাহুলকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলা হয়। প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী এই বিক্ষোভে সকালেও একবার আটক করা হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্য বিরোধী সাংসদদের।
দিনভর নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান রাহুল (Rahul Gandhi)। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মিলে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। জ্ঞানেশের সাহায্যে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমরা শুধু ওদের সঙ্গে লড়ছি না, আমরা ওদের ধ্বংস করব।’
মঙ্গলবারের মিছিলে প্রায় ৩০০ জন ইন্ডি জোটের সাংসদ ছিলেন। রাহুলের (Rahul Gandhi) সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, পি চিদম্বরম, মনোজ ঝা-সহ অন্যরা। তবে আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকের কোনও প্রতিনিধি মিছিলে ছিলেন না। সকাল ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিল শুরু হয়।
আরও পড়ুন: নির্বাচন সদন অভিযানে যোগ বিজেডির, আটকানো হল রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশদের
মিছিল থেকে ‘ভোটচোর, গদি ছোড়’ স্লোগানও ওঠে। নির্বাচন সদন থেকে কিছুটা আগে নীতি আয়োগের অফিসের সামনে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। জাতীয় পতাকা হাতে ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েন রাহুল। এর কিছুক্ষণ পরেই সাংসদদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ। তখন সেখানেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রাহুল, অভিষেকরা। সেখান থেকেই প্রিয়াঙ্কা-সহ বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। যদিও পরে আবার তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে ব্যারিকেড টপকে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রাহুল (Rahul Gandhi)। আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভিতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। ততক্ষণে প্রিয়াঙ্কা-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ পৌঁছে যান আকাশবাণী অফিস চত্বরে। দুপুরে আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য।
আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তাঁরাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে ছিলেন। তবু তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছে। রাহুলের কথায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতেই না পারেন, তা হলে গণতন্ত্রের অর্থ কী ?
পুলিশের তরফে মিছিল আটকানোর জন্য বড়সড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিল্লিতে মোতায়েন ছিলেন ৩,০০০-এর বেশি পুলিশকর্মী। ৩১ কোম্পানি পুলিশ নামানো হয়, যার মধ্যে চারটি ছিল মহিলা পুলিশকর্মীদের কোম্পানি। সংসদ, সংসদ মার্গ, নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
এদিকে রাহুলের (Rahul Gandhi) পাশাপাশি খাড়্গেও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, লড়াইটা কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। দেশের সর্বজনীন ভোটাধিকারই খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সরকারের ‘পুতুলে’ পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ‘একনায়কতন্ত্র’ শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেন খাড়্গে।
অখিলেশও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা ‘লজ্জাজনক’।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রর অভিযোগ, রাহুল গান্ধীকে ফের রাজনৈতিক ভাবে ‘লঞ্চ’ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। তাঁর দাবি, বিরোধীদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য দেশে অরাজকতা তৈরি করা। যদিও রাহুল পাল্টা জানান, বিজেপি কী বলল, তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। তাঁদের লড়াই চলবে এবং তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অভিযানের পর এবার রাষ্ট্রপতির দরবারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। সেই মর্মে মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিক দলের সংসদীয় নেতারা। ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, সব বিরোধী দলের লোকসভা ও রাজ্যসভার নেতারাই ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে চান।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/UbdrBzAThdg?si=_wuFtlUBp7p4O_8t” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>