• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে বিতর্ক

প্রশ্ন তুললেন উদ্ধব ঠাকরে, স্ত্রী গীতাঞ্জলি, এমনকি বিজেপি সাংসদরাও

সোনম ওয়াংচুক

লাদাখে ‘গণবিক্ষোভে’ উসকানির অভিযোগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করার ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ময়দানে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি শিবিরের একাংশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আবার বিরোধী দলগুলো এই ঘটনায় বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করেছে। নিন্দায় সরব হয়েছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলিও।

সংসদীয় মঞ্চে সম্প্রতি বিজেপি দলের এক সাংসদ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সোনমকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে?’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ও। তিনি বলেন, ‘আমরা নীতি ও কাজের ভিত্তিতে আলোচনা করতে চাই, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। সোনম বা যেকোনো ব্যক্তিকে ভিত্তিহীন দোষারোপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয় না।’ সাংসদ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা উচিত, না যে কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসা সৃষ্টি করা?’

Advertisement

ঘটনার জেরে মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ‘বিজেপি আসলে দেশপ্রেমের নাটক করছে’। তিনি বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান আবারও একটি ম্যাচ খেলতে চলেছে। একদিকে, সেনাবাহিনীর জন্য সৌর তাঁবু তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারকারী সোনমকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই দেশের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে, যারা ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গিহামলা চালিয়েছিল। গোটা বিষয়টিই বিজেপির দেশপ্রেমের নাটক।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, লাদাখে গণবিক্ষোভের দুই দিন পর শুক্রবার আন্দোলনের প্রধান মুখ পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের ঠিক আগে তিনি একটি সাংবাদিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাঁকে রাতারাতি লাদাখের লেহ থেকে ১৪০০ কিলোমিটার দূরে রাজস্থানের যোধপুরে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর লেহ শহরে অশান্তি না ছড়ানোর জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়, কড়া পুলিশি পাহারা চালানো হয় ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সোনমের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সরকারের সন্দেহভাজনকে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়। আইন অনুযায়ী এই অবস্থায় জামিন মেলে না। ফলে সোনমের মুক্তি দীর্ঘসময় বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘বহু নেতা সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তিনি তা শোনেননি। আরব বসন্তের কায়দায় বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছেন। নেপালের জেন জি আন্দোলনের উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সোনমের উসকানিমূলক বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল জনতা অনশনস্থল ত্যাগ করে হিংসাত্মক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও লেহ-র সরকারি দপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে।’ উল্লেখ্য, সোনমের শিক্ষামূলক সংস্থার বিদেশি তহবিল গ্রহণের অনুমোদন ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে কেন্দ্র।

সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ওয়াংচুককে হেফাজতে নিয়েছে। এটি গণতন্ত্রের সবচেয়ে খারাপ রূপ। রাজনৈতিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যাগুলোতে যারা কথা বলছেন, তাদের কণ্ঠস্বর রোধ করা হচ্ছে।’ তিনি কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিতর্ক সভায় অংশ নিতে আমি প্রস্তুত।’

Advertisement