• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 22 July, 2026

পুলিশি নিগ্রহের ভিডিও দেখার সময় নেই: ছাত্রদের কথা কানেই তুলল না সুপ্রিম কোর্ট, NEET-ক্ষোভ আরও তীব্র

নিট বিতর্কের জেরে দিল্লিতে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের মামলার জরুরি শুনানি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য ঘিরে উত্তাল সমাজমাধ্যম।

পুলিশি নিগ্রহের ভিডিও দেখার সময় নেই: ছাত্রদের কথা কানেই তুলল না সুপ্রিম কোর্ট, NEET-ক্ষোভ আরও তীব্র

CJI Surya Kant Controversy (SNS)

নিট (NEET) পরীক্ষা ঘিরে বিতর্কে নয়া মোড়। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার জরুরি শুনানিতে রাজি হল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India) সূর্য কান্তের (Surya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের মন্তব্যে স্পষ্ট, আদালতের সময় নষ্ট করার পক্ষপাতী নন তিনি।

কী নিয়ে গোলমাল

গত সোমবার, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar) ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র (Cockroach Janta Party, CJP) ব্যানারে সংসদ অভিমুখে মিছিল করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। দাবি ছিল একটাই, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। অভিযোগ, জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নিটের (National Eligibility cum Entrance Test, NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা তথা এনটিএ-র (National Testing Agency, NTA) কাজকর্ম নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসনিক স্তরে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এরই প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন পরীক্ষার্থী ও পড়ুয়ারা। অভিযোগ, মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ চালায় দিল্লি পুলিশ।

এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা (Public Interest Litigation, PIL) দায়ের করেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। দাবি ছিল, বৃহস্পতিবার মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হোক। আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, পুলিশি বাড়াবাড়ির ভিডিও প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, ভিডিও দেখার মতো সময় তাদের নেই। আইনজীবীদের আদালতের সময় নষ্ট না করারই পরামর্শ দেন তাঁরা। এক দিন আগে একই ধরনের একটি জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানিতে আপত্তি জানিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্টও।

ককরোচ নামের নেপথ্যে

সিজেপি নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিতর্ক। গত ১৫ মে একটি মামলার শুনানিতে বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে কটাক্ষ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, চাকরি না পেয়ে কেউ কেউ সংবাদমাধ্যম, সমাজমাধ্যম কিংবা তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই (Right to Information, RTI) কর্মী হয়ে ওঠেন এবং সকলের বিরুদ্ধে সরব হন। যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই মন্তব্যটিই হাতিয়ার হয়ে ওঠে ছাত্রদের। শ্লেষ্মাত্মক আত্মপরিচয় হিসেবে জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

নিট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, আর তার আঁচ থেকে দূরে নেই পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যের বহু চিকিৎসা পড়ুয়া প্রতি বছর নিট পরীক্ষায় বসেন এবং প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে অতীতে একাধিকবার রাজ্যেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছে। রাজ্যের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিরা বরাবরই রাজ্যভিত্তিক পৃথক মেডিক্যাল প্রবেশিকা চালুর দাবি তুলেছেন, যুক্তি হিসেবে সামনে এনেছেন এনটিএ পরিচালনার গাফিলতির প্রসঙ্গ। এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ফের একবার সামনে নিয়ে এল বিতর্ক। নেটপাড়ায় উঠছে প্রশ্ন, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ছাত্র বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে বিচারবিভাগের অবস্থান ঠিক কতটা সহানুভূতিশীল।