মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে। তৃণমূল কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদের সমর্থন তারা ইতিমধ্যেই জোগাড় করে ফেলেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানান, ‘আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি সমর্থন রয়েছে। মোট প্রায় একশো তিরানব্বই জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়েই এই সমর্থন এসেছে।’ সংসদের বিধি অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রস্তাব আনতে হলে লোকসভায় অন্তত একশো জন অথবা রাজ্যসভায় অন্তত পঞ্চাশ জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। তবেই সেই নোটিস গ্রহণযোগ্য হয়।
Advertisement
তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, লোকসভায় ১২৮জন এবং রাজ্যসভায় ৬৩জন বিরোধী সাংসদ ইতিমধ্যেই এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। নোটিস জমা পড়লে সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি অপসারণের মতোই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রস্তাব পাশ করাতে হলে দুই সদনেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার। উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন থাকতে হবে। সেই সমর্থনের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সদনের মোট সদস্যসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হতে হবে।
Advertisement
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল সূত্রে বলা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সাতটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পক্ষপাতমূলক আচরণ, নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তে বাধা এবং ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তেই এই প্রস্তাব আনা হচ্ছে। একাধিক বিরোধী দল এতে সমর্থন জানিয়েছে।’
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। দলের সাংসদ দামোদর আগরওয়াল বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে এইভাবে আক্রমণ করা ঠিক নয়। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছে।’ এদিকে আম আদমি পার্টিও বিরোধীদের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
ফলে এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
Advertisement



