মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এবার তাঁর আগ্রার বাড়ির সামনেই বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেস। সোমবার সকালে আগ্রার বিজয়নগরে জ্ঞানেশের বাড়ির সামনে জড়ো হন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির মূল ফটক ও বাইরের দেওয়ালে কালো কালি দিয়ে ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’, ‘ভোট চোর’ লেখেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় যুব কংগ্রেসও তাদের সমাজমাধ্যমের হ্যান্ডেলে সেই ছবি পোস্ট করে।
জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই সরব বিরোধী দলগুলি। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সোমবারও উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্যে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়। মহারাষ্ট্রের পুণেয় জেলা কালেক্টরেটের সামনে বিক্ষোভের পরে অতিরিক্ত কালেক্টরের হাতে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।আগ্রার ঘটনায় জ্ঞানেশের বাড়ির গেটে কালো স্প্রে দিয়ে লেখা হয় ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’ এবং ‘ভোট চোর’। কংগ্রেসের যুব সংগঠন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং জ্ঞানেশের পদত্যাগ করা উচিত।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনের জবাবে জানিয়েছে, কোনও প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভিন্ন মত বা লিখিত পর্যবেক্ষণ দেওয়া স্বাভাবিক। কমিশনের বক্তব্য, গত এক বছরে এসআইআর-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসাবেই নেওয়া হয়েছে।জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে তরুণদের অরাজনৈতিক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ক্রমশ রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।




