বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় সরগরম পাটনা। সেই আবহেই সোমবার বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে নেতা নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা হল। রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট চৌধুরীকে বিধানসভায় বিজেপির নেতা এবং অভিজ্ঞ বিধায়ক বিজয় কুমার সিনহাকে উপনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছন বিধায়কেরা। দলের মধ্যে যে কোনও ধরনের দ্বন্দ্ব বা সংশয়কে পিছনে ফেলে বিজেপি যে একজোট হয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আজকের এই বৈঠক সেই বার্তাই দিল।
বৈঠকের পর দলের একাধিক বিধায়ক জানান, নির্বাচনের প্রচারপর্ব থেকে ফল ঘোষণার মুহূর্ত পর্যন্ত সম্রাট চৌধুরীর কার্যকরী ভূমিকা এবং তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাই তাঁকে এই পদে নিয়ে এসেছে। ওবিসি সমাজের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বিজেপির কাছে বিশেষ সম্পদ বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিজয় কুমার সিনহার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা দলের কাছে মূল্যবান বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তাও চলে। কয়েকজন বিধায়ক জানান, ‘নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সরকার গঠনে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইয়ে দল আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। অভিজ্ঞতা এবং সংগঠন— দুইয়ের মিশ্রণ রেখেই এই নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে।’
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের ভোট-পরিসংখ্যানে ওবিসি সম্প্রদায়ের বড় ভূমিকা থাকায় অনেকেই মনে করছেন, বিজেপির নেতৃত্ব সম্রাট চৌধুরীকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নিজের জনভিত্তি আরও মজবুত করতে চাইছে। একই সঙ্গে বিজয় কুমার সিনহার উপস্থিতি বিধানসভায় দলকে কৌশলগত সুবিধা দেবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
এদিনের বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে সরকার গঠন নিয়ে। বিজেপির বিধায়করা জানিয়েছেন, নেতৃত্ব ঠিক হয়ে যাওয়ায় এখন সরকার গঠনের পথ অনেকটাই সুগম। রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপি যে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, তার প্রথম পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে এই নেতৃত্ব নির্বাচন। পাটনা জুড়ে এখন জল্পনা— নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে, আর কোন কোন মুখ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহার যৌথ নেতৃত্ব আগামী দিনে বিজেপির কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।




