• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 21 June, 2026

তামিলনাড়ুতে গ্যাস লিক করে মৃত্যু কমপক্ষে ৭, আহত বহু, তদন্তের নির্দেশ

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬৭ জন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আক্রন্ত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়

তামিলনাড়ুর সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে কমপক্ষে সাত জন মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও বহু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। যাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬৭ জন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আক্রন্ত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক কবিতা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৪৬ জন ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জন ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ অন্তত নয় জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরের একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওগুলিতে দেখা গিয়েছে, হঠাৎ গ্যাস ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার ভিতরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। বহু শ্রমিক শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বমির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই ভিনরাজ্য থেকে কর্মসূত্রে গিয়েছিলেন বলে খবর। বিশেষত উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকরা ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, কারখানার একটি পরিমাপক ভালভ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামেরর কাছে কান্নিগাইপায়ার গ্রামের চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী তলপতি বিজয় অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য-সচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত অধিকর্তাক নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট এবং তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসায় কোনওরকম গাফিলতি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে কড়া নজরদারি নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে কারণে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।